কোচবিহার: বন্যা ও ধসে যেন যথেষ্ট ছিল না। এবার গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হল বন্যপ্রাণীর আক্রমণ। জঙ্গল থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীরা। রয়েছে ব্ল্যাক প্যান্থার, চিতাবাঘ বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কাও। এর মাঝে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে প্রাণ হারালেন বীরেন বর্মন। মেজবিল গ্রামে আবার গণ্ডার ঘিরে আতঙ্ক।

Continues below advertisement

বন্যার জলে ভেসে আসা বন্য শুয়োরের হামলায় মারা গিয়েছেন বীরেন। ঘটনাটি কোচবিহারের মাথাভাঙায়। খবর অনুযায়ী তোর্সা নদীর পাড়ে জলে ভেসে আসা বন্য শুয়োরের হামলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন পেশায় কৃষক বীরেন বর্মন। অপরদিকে, জলদাপাড়া অভয়ারণ্য থেকে মাত্র ১.৫ কিমি দূরে, বিজনবাড়ি ও ব্যাঙ্কডুবি ফরেস্টের মাঝে অবস্থিত মেজবিল গ্রাম। 

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন একদিকে যেখানে বৃষ্টি, বন্যায় বিধ্বস্ত গোটা এলাকা, তখন তাঁদের সমস্যা বাড়িয়েছে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা। তোর্সার জলে তিন থেকে চারটি গণ্ডারকে ভেসে আসতে দেখেন স্থানীয়রা। গত দু'দিন ধরে গণ্ডাররা তাণ্ডব চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে একটি গণ্ডার পার্শ্ববর্তী গ্রামে চলে যায়। অপর একটি গণ্ডারকে গতকাল রাত আট, সাড়ে আটটায় নাগাদ বাজারের কাছে দেখতে পান এলাকার মানুষজন। যথারীতি তাঁকে দেখা মাত্রই চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Continues below advertisement

গণ্ডারের হাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে সঙ্গে সকলে বাড়ি ফিরে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন, দোকানের শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বন দফতর পৌঁছলে, তাঁদের ঘিরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান। বন দফরের বিরুদ্ধে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন না করা, গাফিলতির অভিযোগ। এই ঘটনার পর একটা দিন পেরিয়ে গেলেও সেই গণ্ডারকে খুঁজে পাওয়ানি।

আজ সারাদিন ফালাকাটা থেকে কোচবিহার পথে হাতির সাহায্যে বন দফতরগণ্ডারের খোঁজে তল্লাশি চালায়। তবে তাঁরা এ বিষয়ে সাফল্য় পায়নি। বন্যপ্রাণীর আতঙ্কে থমথমে গোটা এলাকা। অন্ধকার চারিদিক। এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ির পাশ দিয়েই গতকাল ওই গণ্ডারটি ছুটে পালিয়ে সেই। সেই স্থানীয় বাসিন্দা রীতিমতো আতঙ্কে, ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, 'আমাদের বাড়িতে ছোট বাচ্চা রয়েছে। গতকাল তো ভয়ে সারারাত ঘুমই হয়নি। এখন তো অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। আজ কী হবে জানি না।' ক্ষুব্ধ আরেক স্থানীয়ের দাবি, 'জলের যন্ত্রণা তো রয়েইছে। এছাড়াও গণ্ডার,বাইসন, হাতি সবই বেরোচ্ছে।'

এদিকে উত্তরবঙ্গে মৃত্যুমিছিল যেন থামছেই না। ইতিমধ্যেই বন্যা ও ধসের জেরে ২৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর। যদিও সংবাদসংস্থা IANS সূত্রে সংখ্যাটি আরও বেশি, ৩৬ বলে দাবি করা হচ্ছে। সদ্যই বিজনবাড়িতে রঙ্গিত নদীতে আরও একজনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। NDRF সূত্রের খবর, দার্জিলিঙে ১৮ জনের মৃত্যু, জলপাইগুড়িতে ১০। 

এদিকে এমন পরিস্থিতিতেও আবহাওয়া দফতরের তরফে উত্তরবঙ্গের জন্য় কিন্তু কোনও সুখবর দেওয়া হচ্ছে না। উত্তরবঙ্গে আগামী দুইদিনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মন্দের ভাল বলতে এটাই যে কোথাও ভারী বৃষ্টির তেমন সতর্কতা নেই। কিন্তু বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।