পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : বাংলাদেশে খুন হয়েছিলেন ওসমান হাদি। শোনা গিয়েছিল, তাঁর হত্যাকারীরা নাকি ভারতে পালিয়ে এসেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হল হাদিকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ২ জন। বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে এই ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের STF. গ্রেফতার করা হয়েছে রাহুল ওরফে ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেনকে। ফয়জল পটুয়াখালির বাসিন্দা এবং আলমগিরের বাড়ি ঢাকায় বলে জানা গিয়েছে। ওসমান হাদিকে খুনের পর এই ২ অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে খবর এসটিএফ সূত্রে। মেঘালয় দিয়ে ভারতে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছিল এই ২ অভিযুক্ত, এমনটাই খবর STF সূত্রে। শেষ পর্যন্ত বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয় এই ২ অভিযুক্ত, খবর STF সূত্রে। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে আবার বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের, দাবি STF সূত্রে। গতকাল রাতে বনগাঁ এলাকা থেকে এই ২ জনকে গ্রেফতার করে বেঙ্গল STF। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে গুলি করা হয় ওসমান হাদিকে। আওয়ামি লিগ ও ভারত বিরোধী বক্তব্যের জন্য প্রচারে এসেছিলেন এই ওসমান হাদি।
শনিবার রাতে বনগাঁ সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ৩৭ বছর বয়সী ফয়জল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং ৩৪ বছরের আলমগির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গিয়েছে এই ২ জন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বাংলাদেশেও হাদি খুনের পর এই ২ জনের নাম সামনে এসেছিল বলে সূত্রের খবর। অবৈধভাবে এই ২ জন ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন জায়গায় যায়। এসটিএফ জানতে পেরেছে এই ২ অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনটাই জানা গিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছিল এই ২ অভিযুক্ত। এরপর বনগাঁয় এসে থাকতে শুরু করে তারা এবং বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ফের বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের, এমনটাই খবর এসটিএফ সূত্রে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ২ জন এসে বনগাঁয় গা-ঢাকা দিয়েছে এমন খবর পেয়েই সেখানে যায় বেঙ্গাওল পুলিশের এসটিএফ। ২ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় যে, এই ২ জনই সেই ব্যক্তি যারা বাংলাদেশে ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের এতদিন ধরে খোঁজ চলছিল।
গোপন সূত্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ খবর পায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি এবং খুন-সহ একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত ২ জন পালিয়ে এসে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং বনগাঁ সীমান্তে গা-ঢাকা দিয়েছে। ফের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এই খবর পেয়ে অভিযান চালায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ। প্রথমে আটক করা হয় ফয়জল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগির হোসেনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় এরা বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে খুন করে পালিয়ে ভারতে এসেছে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। আদালতেও পেশ করা হয়েছে এই ২ জনকে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হয় গত ১৮ ডিসেম্বর। তার আগে ১২ ডিসেম্বর ঢাকাতেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। মাথায় গুলি লাগে তাঁর। সূত্রের খবর, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল হাদিকে। চিকিৎসার জন্য এয়ারলিফট করে তাঁকে নিয়ে যাওয় হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় শরিফ ওসমান হাদির।