কলকাতা : এবার বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলমুক্তির পরে বিধানসভার জোড়া কমিটিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। আবাসনের সঙ্গে অগ্নি নির্বাপণ-বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত বিধানসভার জোড়া কমিটিতে জায়গা পেলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। এরপরে হয়তো প্রার্থীও হয়ে যাবেন বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। 

Continues below advertisement

এনিয়ে সুর চড়িয়ে শুভেন্দি অধিকারী বলেন, "আসন বদল তৃণমূল কংগ্রেস করেনি। তার কারণ হচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তারা হয়তো ভোটেও লড়াবে। সেই চ্যালেঞ্জ অমিত শাহজি করে গেছেন। যে, যদি টিকিট না দেন তাহলে বুঝব যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদের কাজকে সমর্থন করেননি। কেষ্ট মণ্ডলের ক্ষেত্রে আপনারা দেখেছেন, তাঁর প্রোমোশন হয়েছে। পদোন্নতি হয়েছে। নিরাপত্তা বেড়েছে। অর্থাৎ, এখানে যে যত এই ধরনের কাজ করবেন তাঁকে সসম্মানে-মর্যাদা দেওয়া হবে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় ভোটে লড়লেও আমরা আশ্চর্য হব না। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পদোন্নতি হলেও আমরা আশ্চর্য হব না।"

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অবশ্য বলছেন, "পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় তিনি কোন স্ট্যান্ডিং কমিটিতে কী পাবেন এটা সম্পূর্ণ বিধানসভার বিষয়। এনিয়ে দলীয় কোনও মন্তব্য কোনও অবস্থায় করব না। কোনও বিধায়ক, তিনি কিন্তু এই ধরনের স্ট্যান্ডিং কমিটি যেগুলি, সেগুলোই তিনি থাকতে পারেন। কার্যত থাকাটা অধিকার। দলমত নির্বিশেষে কোনও না কোনও বিধায়ক, কোনও না কোনও সাংসদ, কোনও না কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটি বা পার্লামেন্টের ক্ষেত্রে কনসালটেটিভ কমিটি...এগুলোয় প্রত্যেকই থাকতে পারেন। সিটিং এমএলএ বা সিটিং এমপি হলে, যে কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটি বা পার্লামেন্টের ক্ষেত্রে কনসালটেটিভ কমিটিতে...এই অ্যালটমেন্টগুলো হয়েই থাকে। তার সঙ্গে দলীয় রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই।" 

Continues below advertisement

গত বছর নভেম্বর মাসে জামিনে মুক্ত হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিন বছর তিন মাস পর জেলথেকে বের হন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। জেল হেফাজতে থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার জেরে আর এন টেগোর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পার্থ। জামিন পেয়ে সেখান থেকেই বেরিয়ে আসেন। আর সেখানে তাঁকে ঘিরে অনুগামীদের ভিড় হয় কার্যত উপচে পড়া। তাঁকে দেখামাত্রই উচ্ছ্বাস বাঁধ ভাঙে অনুগামীদের। স্লোগান ওঠে, 'পার্থদা জিন্দাবাদ', 'জয় বাংলা'। পার্থ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন অনুগামীরা। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২৩ জুলাই নাকতলার বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ। এতদিন পর মুক্তি পান তিনি।