কৌশিক গাঁতাইত, আসানসোল: সামান্য বিবাদকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আসানসোলের বার্নপুরের শ্যাম বাঁধ এলাকা। অভিযোগ লাঠি, রড, শাবল ও কোদাল হাতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের উত্তেজিত জনতা স্থানীয় একটি ক্লাব ও ক্লাব সংলগ্ন একটি বাড়ির উপর হামলা চালায়। বাড়ির সদস্যদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

Continues below advertisement

কিন্তু হঠাৎ কী থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুরে একটি টোটোতে করে এক মহিলা তাঁর শিশুকে কোলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় টোটো থেকে ছিটকে পড়া জল এক ব্যক্তির গায়ে পড়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই টোটো চালকের সঙ্গে শুরু হয় বাদানুবাদ। অভিযোগ, সেই বাদানুবাদের জেরেই টোটো চালক ও টোটোতে থাকা মহিলা যাত্রীর উপর চড়াও হয় কয়েকজন। মহিলাকে ধাক্কা দেওয়া হলে সেইসময় তাঁর কোলে থাকা শিশুটিও আহত হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে পরে ওই মহিলার পরিচিত ও স্থানীয় মানুষজন একত্রিত হয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ, এরপরই উত্তেজিত জনতা শ্যাম বাঁধ এলাকার একটি ক্লাব ও পাশের একটি বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ির লোকজনকেও মারধর করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Continues below advertisement

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হিরাপুর থানার পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে টোটো চালক ও টোটোয় থাকা মহিলা যাত্রীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ধৃতদের আসানসোল আদালতে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে ছাড়ানোর দাবিতে রাতের দিকে ফের সমর্থকরা হিরাপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। থানার সামনে অবরোধের জেরে যান চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে। তবে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিলে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের বাড়ি পাঠানো সম্ভব হয়। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে পেশ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, টোটো থেকে জল ছিটকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মেন্দ্র যাদব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু প্রথমে টোটো চালককে মারধর শুরু করেন। যাত্রী মহিলা প্রতিবাদ করলে তাঁকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। সেই সময়েই শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ সামনে এসেছেন।

সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বার্নপুরের শ্যাম বাঁধ এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।