কলকাতা : আবারও ধাক্কা জ্বালানির দামে। মঙ্গলবার দেশজুড়ে ফের বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় বৃদ্ধি। তেল সংস্থাগুলির নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে প্রায় ৯১ পয়সা এবং পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ৮৭ পয়সা। এর আগে গত শুক্রবারই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ফলে দেশের একাধিক মেট্রো সিটিতে জ্বালানির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব বাজারে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এই আবহে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম যে বাড়তে পারে, ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই তার ইঙ্গিত মিলছিল। সম্প্রতি একাধিক সভা থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আবার তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও তীব্র হল। এর ফলে বোঝা আরও বাড়বে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। 

Continues below advertisement

কলকাতায় কত দাম?

নতুন দামের পর কলকাতায় পেট্রোলের দাম হয়েছে লিটার প্রতি ১০৯ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৭ পয়সা।

Continues below advertisement

দেশের বিভিন্ন শহরে পেট্রোলের দাম দিল্লি – ৯৮.৬৪ টাকাকলকাতা – ১০৯.৭০ টাকামুম্বই – ১০৭.৫৯ টাকাচেন্নাই – ১০৪.৪৬ টাকাবেঙ্গালুরু – ১০৭.১২ টাকাহায়দরাবাদ – ১১১.৮৮ টাকা ডিজেলের নতুন দাম দিল্লি – ৯১.৫৮ টাকাকলকাতা – ৯৬.০৭ টাকামুম্বই – ৯৪.০৮ টাকাচেন্নাই – ৯৬.১১ টাকাবেঙ্গালুরু – ৯৫.০৪ টাকা কেন বাড়ছে জ্বালানির দাম?

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। বিশেষ করে স্ট্রেট অফ হরমুজ এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফেরেনি। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি খরচে। যদিও সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

২০২২-এর পর বড় পরিবর্তন

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে দেশে খুচরো জ্বালানির দামে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র ২০২৪ সালের মার্চ মাসে লোকসভা ভোটের আগে কেন্দ্র সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দামে লিটার প্রতি ২ টাকা কমিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সেই স্বস্তি অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল বলেই মনে করছে সাধারণ মানুষ।