কলকাতা: ২০১১ সালে, রাজ্য রাজনীতির পট পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল যে সিঙ্গুর সেখানে দাঁড়িয়ে আসল পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। হুগলির সিঙ্গুরের এই জমি থেকেই একদিন শিল্পের স্বপ্ন ডানা মেলেছিল। এদিন কি শিল্প নিয়ে বড় কোনও ঘোষণা করেছেন নরেন্দ্র মোদি?
সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এখানেও বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের হাল বদলাবে। এটাই নরেন্দ্র মোদির গ্যারান্টি। পশ্চিমবঙ্গে মহা-জঙ্গলরাজের পতন ও বিজেপির ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত নন। মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের কব্জায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে, কেউ চাকরি পাবেন না। এখানে কলেজে ধর্ষণ, হিংসার ঘটনা বন্ধ হোক। পশ্চিমবঙ্গে আর যেন সন্দেশখালির মতো ঘটনা না ঘটে। আর যেন হাজার হাজার শিক্ষককে চাকরি খোয়াতে না হয়'।
এরপর মোদি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে। পশ্চিমবঙ্গে দুষ্কৃতী-পুলিশ সবাই এক। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট-রাজ খতম করবে, এটা মোদির গ্যারান্টি।'
পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিতে হয় টাটা গোষ্ঠীকে। ক্ষমতা থেকে সরতে হয় বামফ্রন্টকে। প্রায় ১৮ বছর পর বিধানসভা ভোটের মুখে রবিবার সেই সিঙ্গুরেই সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোট আসছে। তার আগে সিঙ্গুরে সভা করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। দিলেন প্রতিশ্রুতি। ১৮ বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সিঙ্গুরের ভাগ্য বদলায়নি। এবার কি সেখানে শিল্পের শিকে ছিঁড়বে?
মোদির কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না। রাজ্যবাসীর সঙ্গে শত্রুতা করছে তৃণমূল সরকার। এই তৃণমূল সরকারের যাওয়া উচিত নয় কি পশ্চিমবঙ্গকে কি এভাবে সাজা দিতে পারে তৃণমূল সরকার?গরিবদের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। ভোটাররা এখন জেগে উঠেছেন, তৃণমূল সাজা পাবে। দিল্লিতেও এমন সরকার ছিল, কেন্দ্রের প্রকল্প লাগু করতে দিত না। দিল্লিবাসী সেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। এখন আয়ুষ্মান ভারত-সহ সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে দিল্লি। পশ্চিমবঙ্গেও আয়ুষ্মান ভারত চালু করতে চায় কেন্দ্র', ফের তৃণমূল সরকারকে নির্মম বলে আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর।