আশাবুল হোসেন, কলকাতা : সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন আগেই। সোমবার সকালে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বৃদ্ধি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়। বিধানসভা ভোটের মুখে যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে, তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এনিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি প্রতীক উর রহমান। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প নিয়ে তাঁর মতামত জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

Continues below advertisement

কী বললেন তিনি ? এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহুদিন থেকে দেখছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সরকার...তার যে একের পর এক প্রকল্প বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা সেটাকে আপনি কোন চোখে দেখেন ? 

প্রতীক উর রহমান : একজন মানুষের একজন মানুষকে সম্মান করা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় হতে পারেন, দিলীপ ঘোষ হতে পারেন, নৌশাদ সিদ্দিকি হতে পারেন, শুভঙ্করদা হতে পারেন। যে কেউ হতে পারেন। ব্যক্তি হিসাবে ব্যক্তির সম্মান করা উচিত। যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে...এই সরকার যেভাবে গরিব মানুষকে প্রকল্পগুলো দিয়েছে...একটা সময় আমরা বলতাম ভিক্ষা ভিক্ষা ভিক্ষা। এখন বুঝছি ওটা ভিক্ষা না, ওটা মানুষের অধিকার দিয়েছেন। মানুষ মনে করছেন, ওই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মধ্যে দিয়ে তিনি তাঁর আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছেন। গ্রামের মা মনে করছেন। আমরা তখন ভুল বুঝেছিলাম। পরে রিয়েলাইজ হয়েছে যে ভিক্ষা বলা যাবে না। পরে আমাদের লাইন চেঞ্জ হল যে, প্রয়োজনে দেড় হাজার টাকার বদলে আমরা ২ হাজার টাকা দেব, ৩ হাজার টাকা দেব। কিন্তু ভিক্ষার পাত্র এটা বলা যাবে না। ফলে, আমরাই স্বীকার করেছিলাম যে কাজগুলো ভাল কাজ করেছেন। তাই, অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। আমরা বলতাম, ভিক্ষা নয় অধিকার চাই। পরে বোঝা গেল, আসলে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যা হয় ...যখন মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করা হয়েছে তখন বোঝা গেল যে মানুষ এটা ভিক্ষা নয় অধিকার হিসাবে নিচ্ছেন। এটা মানুষের আত্মসম্মান । শুধুমাত্র আপনি টাকা দেখবেন না। ওঁর মধ্যে অনেক আত্মসম্মান লুকিয়ে আছে। যেটা নিয়ে সে মাথা উঁচু করে বাঁচছে। নিজের সন্তানের জন্য কিছু করছে।

Continues below advertisement