আশাবুল হোসেন, কলকাতা : 'ডর কা মহল। ভয়ের পরিস্থিতি। গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না।' এবিপি আনন্দকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন প্রতীক উর রহমান। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের দায়িত্ব নিয়ে তুলে দিলেন প্রশ্ন। 

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দ : আপনি যেটা বলছেন যে, দলের একাংশের মধ্যে নীতি-নৈতিকতার অভাব দেখা দিয়েছে। এই যে একাংশ তার মধ্যে পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম পড়েন ?

প্রতীক উর রহমান : আমার তো তাই মনে হচ্ছে। দেখুন, নীতি-নৈতিকতা কি না সেটা তো আমি বলতে পারব না ওভাবে। কার মধ্যে কী আছে না আছে। কিন্তু, সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদকের যে দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল, আমার মনে হয়েছে, উনি সেই দায়িত্ব যদি যথাযথ পালন করতেন, তাহলে আজ আপনার সঙ্গে এখানে বসে আমি বাইট দিতাম না। আপনার সঙ্গে এখানে কথা বলতাম না। হয়ত এখন, আলিমুদ্দিনে রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে বসে আমি কথা বলতাম। ওঁর দায়িত্ব ছিল ডাকার। উনি ডাকেননি। তাহলে কোথাও তো গিয়ে মনে হবেই। এটাই তো স্বাভাবিক। আদর্শের বিচ্যুতি কি না যারা নেতৃত্ব আছেন, যারা ওই ঘরে বসে আছেন, তাঁরা বলতে পারবেন। তাঁরা কেন চুপ করে আছেন আমি তো জানি না। তাঁদের তো প্রশ্ন করা উচিত। ডর কা মহল। ভয়ের পরিস্থিতি। গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না। কিতনে আদমি থে। বলা যাবে না। বলেছিল, সর্দার দো আদমি থে। এখানে সেটিও বলা যাবে না। সর্দার যা বলবে, সাহেব যা বলবে সেটাই করতে হবে। কী কালচার কমিউনিস্ট পার্টিতে ? 

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দ : আপনি তো খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গত লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। তাহলে সেটিংটা কীভাবে হল ?

এবিপি আনন্দ : আমি জানি না। কিন্তু, যে বা যারা হুমায়ুনের (হুমায়ুন কবীর) সঙ্গে যখন বসতে যান তখন সেটিং থাকে না। নিজে এমপি-এমএলএ হওয়ার জন্য শাসক দলের নেতা ঘনিষ্ঠ থেকে কোথাও সেটিং কোথাও টাকা নেন...তখন সেটা সেটিং হয় না। আর আমি যখন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করি, তখন সেটিং হয়। আসলে সেটিংয়ের কথাটা বলা হচ্ছে এই কারণে, ব্যক্তিগতভাবে ম্যালাইন করে দাও। লড়াইটা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতর লড়াই। সেখানে তো মতাদর্শ আসছে।  সেখানে সংগঠনের প্রশ্ন তো অবশ্যই আছে। সেই প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছি। সেই কারণে হয়ত এত অপ্রিয়।