কলকাতা : সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতীক উর রহমান । সিপিএম সূত্রে খবর, আজ সকালে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি । দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন প্রতীক উর। SFI-এর রাজ্য সভাপতি ছিলেন তিনি। '২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।এবারের বিধানসভা ভোটেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু, সোমবার আচমকা রাজ্য কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
বিস্তারিত...
আজ সকালে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য, একসময়ের ছাত্রনেতা প্রতীক উর রহমান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এমনটাই খবর সিপিএম সূত্রের। জানা গেছে, বেশ কিছু প্রশ্নে তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের মতবিরোধ তৈরি হচ্ছিল। সেই কারণেই তিনি রাজ্য কমিটির সদস্যপদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চান। সেই কারণেই তাঁর পদত্যাগ পাঠানো। যদিও প্রতীক উর এখনও এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, যা বলার দলের ভিতরে বলেছি। দলের ভিতরে বলব। এনিয়ে মিডিয়ার সামনে আমি এখনই কোনও কথা বলছি না। সিপিএমের একাধিক নেতৃত্বের সঙ্গে এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে, তাঁরা কেউ প্রতিক্রিয়া দেননি।
কিন্তু যেটা জানা যাচ্ছে, প্রতীক উর এবং সৃজন ভট্টাচার্য এই দুজন ছিলেন এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক। ছাত্র আন্দোলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে সৃজন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক হন। অন্যদিকে, প্রতীক উর রহমান এই মুহূর্তে মূলত ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলে সিপিএমের কাজকর্ম করেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও প্রতীক উর রহমান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবং সিপিএমের যারা তরুণ প্রজন্মের মুখ্য তাঁদের মধ্যে প্রতীক উর অন্যতম। সুবক্তা এবং বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত। কেন তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের এই মতবিরোধ তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে দুটো ঘটনা সামনে এসেছে। এক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্মেলনের পর জেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় জেলা কমিটির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমানরা। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজ্য কমিটির হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা মিটে যায়।
কয়েকদিন আগে শতরূপ ঘোষ একটি মন্তব্য করেছিলেন সোশাল মিডিয়ায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। তা নিয়ে সিপিএমের মধ্যে রীতিমতো চর্চা হয়।