Pratik Ur Rahman: তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। এর পরই সিপিএম থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা ছিল যে প্রতীক উর রহমান যোগ দিতে পারেন শাসক শিবিরে। সেই জল্পনাই সত্যি হয়েছে। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে উত্তরীয় পরে, পতাকা নিয়ে কাস্তে-হাতুড়ি ছেড়ে জোড়াফুলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই 'প্রতীক' বদল করেছেন এককালের বাম যুবনেতা। ভোটের আগে প্রতীক উর- এর সিপিএম ছাড়া নিঃসন্দেহে দলের জন্য একটা বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রতীক উর তৃণমূলে যোগ দিলেন সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালে ডায়মন্ড হারবার থেকে লোকসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। হেরে গিয়েছিলেন প্রতীক উর, তবে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাম প্রার্থী যার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়নি সেবারের ভোটে।
এদিন প্রতীক উর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁকে সিপিএম থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, 'আমরা রাজ্য কমিটিতেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সেটা খুবই বেদনাদায়ক, তাও আমি বলেছিলাম যে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত... যা করণীয় সেই ব্যাপারে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল। রাজ্য কমিটি থেকে সম্পাদকমণ্ডলীকে অথরাইজ করা হয়েছিল এবং এ ধরনের ক্ষেত্রে আমাদের পার্টির গঠনতন্ত্রে একেবারে নির্দিষ্ট আছে, ১৯ নম্বর ধারার ৭ নম্বর উপধারায়, শত্রু শিবিরে কেউ যদি যোগ দেয়, বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পার্টির মধ্যে, পার্টি বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত দেয়, তাহলে তাকে সরাসরি তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করতে হয়। সেই গঠনতন্ত্রের ১৯ নম্বর ধারার ৭ নম্বর উপধারা অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত করলাম রাজ্য কমিটির তরফ থেকে, রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান, তাকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সবই হচ্ছে এই গ্যাংস্টারের ওয়ান অফ দ্য মেজর গ্যাংয়ের কাছে, কিংপিন- এর কাছে সারেন্ডার করার পূর্বশর্ত এসব কথা বলা।'
রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন প্রতীক উর রহমান। সেই সময় থেকেই জল্পনা ছিল তিনি হয়তো তৃণমূলে যাচ্ছেন। এই গোটা পরিস্থিতিতে সেই সময় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছিলেন একজন পিতা সন্তানহারা হলে যেমন অনুভূতি হয়, তাঁর সেই রকমই মনে হচ্ছে।