কলকাতা: রাষ্ট্রপতির কর্মসূচিতে নেই মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যকে নিশানা অমিত মালব্যর। বললেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। শিলিগুড়ি সফরের সময় রাষ্ট্রপতি নিজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সাঁওতালি কনক্লেভের অনুমতি দেয়নি রাজ্য সরকার। আন্তর্জাতিক সাঁওতালি কনক্লেভে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। যখন কোনও রাজ্য রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে, তখন সেটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়'। এটা সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার সামিল, আক্রমণ বিজেপির আইটি সেলের প্রধানের।
আরও পড়ুন, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ইস্যুতে কৌশল বদল তৃণমূলের
মূলত শনিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে ছিল নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি৷ ভারতীয় সাঁওতাল সমাজের দাবি, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ার শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান সরানো হয় বাগডোগরায়। ২টি জায়গার দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।
ভারতীয় সাঁওতাল সমাজের দাবি, শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের স্থান বদলের খবর না পাওয়ায় অনেকে বিধাননগরে চলে যান, দূরত্বের কারণে আর বাগডোগরায় যেতে পারেননি।এই খবর পেয়ে, বাগডোগরার অনুষ্ঠান সেরে বিধাননগরে আসেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, এখানে এসে দেখে মনে হচ্ছে এখানে (সম্মেলন) হলে ভাল হত। এতবড় মাঠ। জানি না, প্রশাসনের কী হয়েছে। প্রশাসনের মনে কী আছে জানি না। আমি তো সহজে এখানে আসতে পারলাম। তারা বলল, না, ওখানে ছোট জায়গায়। আমি তো দেখছি, এখানে ৫ লাখ লোক জড়ো হতে পারে। জানি না, কী কারণে আমাকে ওখানে নিয়ে গেল।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, আমি জানি না কী অনুষ্ঠান,কারা আয়োজন করেছে, কারা অনুষ্ঠানে আসবেন, কারা ফান্ডিং করছেন। আমি কিছু জানি না। ২ দিন আগে খবর পেলাম উনি আসছেন। আপনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সাঁওতালি কনফারেন্স করছেন, আমরা নাকি কাউকে যেতে দিইনি। এটা তো রাজ্য় সরকার পার্টি ছিল না। রাজ্য় সরকার তো জানেই না।'অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে!রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষোভ-অভিমান-আক্ষেপ কোনওটাই চেপে রাখেননি! জানি না কী হয়েছে। জানি না ওঁর(মুখ্যমন্ত্রী) মনে কী আছে। উনিই জানেন। কিন্তু আমি খুবই দুঃখ পেয়েছিলাম। কিন্তু, এখানে এসে খুব ভাল লাগছে। অনেকটা দূর বলে অনেকে পৌঁছতে পারেননি। হয়তো উনি(মুখ্যমন্ত্রী) মনে মনে ভেবেছিলেন, এখানে কেউ আসবেন না আর রাষ্ট্রপতি এসে এমনিই ঘুরে চলে যাবেন। যেহেতু অনুষ্ঠানের তারিখ আগের থেকেই নির্ধারিত ছিল, সেই কারণে আমি এসেছি। ঠিক আছে। আমিও তো বাংলার মেয়ে। কিন্তু আমাকে আসতেই দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানস্থল বিতর্কে সাফাইয়ের সুর শিলিগুড়ি পুরসভার গলায়।শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব বলেন, আমার জীবনে এখনও পর্যন্ত দেখিনি, যে প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে এই রকমভাবে সাংবিধানিক প্রধানের অনুষ্ঠান হয় এবং তিনি যে মন্তব্য করেছেন। আমরা খুব মর্মাহত, এটা সেই NGO, যারা অনুষ্ঠান করেছে এবং রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে মনিটার্ড হয়েছে, যার চেয়ারপার্সন এক সময়ে দ্রৌপদী মুর্মু ছিলেন, তারা বলতে পারবে, রাজ্য সরকারকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে? সামনেই বিধানসভা ভোট।সব কিছুই এখন রাজনীতি ময়! দেশের সাংবিধানিক প্রধানের অনুষ্ঠানও বাদ গেল না!একেক জনের একেক দাবি! অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান ঘিরেও তুঙ্গে রাজনীতি।অনুষ্ঠান শেষে দিল্লি ফিরে যান রাষ্ট্রপতি।
