কলকাতা: রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের স্থান বদল ও প্রোটোকল ভাঙা নিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষোভপ্রকাশ। এ নিয়ে রাজ্য বনাম কেন্দ্র বিতর্ক চলাকালীনই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। শিলিগুড়ির CP ও দার্জিলিঙের জেলাশাসককে এবার ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। CP সি সুধাকর ও জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

Continues below advertisement

এই নিয়ে রাজ্য সরকারের মতামত চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, খবর নবান্ন সূত্রে। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন শিলিগুড়ির CP ও দার্জিলিঙের জেলাশাসক। সেই কারণে এই ২ আমলাকেই কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 

প্রসঙ্গত, ২০২০-তেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের আমলাদের নিয়ে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময়ে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সফর চলাকালীন নাড্ডার কনভয়ে হামলা হয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়েছিল কেন্দ্র। তৎকালীন জেলার SP ভোলানাথ পাণ্ডে, DIG প্রবীণ ত্রিপাঠী এবং IG রাজীব মিশ্রকে ডেপুটেশনে পাঠাতে বলে কেন্দ্র। তবে সেবার কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে কাউকেই ছাড়েনি রাজ্য। এবারও সম্ভবত কোনও আধিকারিককেই ছাড়বে না রাজ্য, খবর নবান্ন সূত্রে। তবে কয়েক মাস পর কেন্দ্র এই নির্দেশ বাতিল করে দেয়, সূত্রের খবর।  

Continues below advertisement

এদিকে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেন না তৃণমূল সাংসদরা। সময়ের অভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে, খবর সূত্রের। আদিবাসীদের রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান দিতে দেখা করার আর্জি তৃণমূল সাংসদদের। দেখা করার অনুমতি চেয়ে গত ৯ মার্চ চিঠি পাঠায় তৃণমূল, খবর সূত্রের। ১২-১৫ জন সাংসদ দেখা করতে চান, জানানো হয় চিঠিতে, এমনটাই খবর সূত্রের।  

কী ঘটেছিল? 

শনিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে ছিল নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি৷ ভারতীয় সাঁওতাল সমাজের দাবি, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ার শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান সরানো হয় বাগডোগরায়। ২টি জায়গার দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মু প্রথমবার এসেছিলেন উত্তরবঙ্গ সফরে। নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানস্থলের স্থান পরিবর্তন নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, 'এখানে এসে দেখে মনে হচ্ছে এখানে (সম্মেলন) হলে ভাল হত। এতবড় মাঠ। জানি না, প্রশাসনের কী হয়েছে।'