তুহিন অধিকারী, বাঁকুড়া: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। এ বার মা সারদার জন্মভিটেয় পৌঁছল রেলের চাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়ার জয়রামবাটি। সেই সঙ্গে মোদির হাত ধরে আরও একধাপ এগোল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। 

Continues below advertisement

এক সময় এই জয়রামবাটি থেকে ট্রেন ধরতে মা সারদাকে ৪০ কিলোমিটার পথ গরুর গাড়িতে চেপে বিষ্ণুপুর যেতে হত। সেই ২০০০-০১ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। রেলপথ নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে ২০১০ সালে বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর ও ২০১২ সালে বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তারপরও ভাবাদিঘির জমিজটে থমকে ছিল স্বপ্ন। সেই জট কাটিয়ে আজ সত্যি হল দীর্ঘদিনের দাবি।

আজ সিঙ্গুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রেল পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। সবুজ সংকেত পেতেই জয়রামবাটি স্টেশন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আপাতত প্রতিদিন একটি করে ট্রেন এই পথে চলাচল করবে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে এই লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া যাওয়া যাবে। এতে শুধু পর্যটন নয়, এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন - Bankura News: রীতি পরিণত হয়েছে রেওয়াজে, মুড়িকে কেন্দ্র করেই নদীর চরে বসে শতবর্ষ প্রাচীন মুড়ি মেলা

মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরি সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে আজ তিল ধারণের জায়গা ছিল না। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরাও হাজির হয়েছিলেন এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকতে। চোখের সামনে এভাবে স্বপ্ন পূরণ হতে দেখে তাঁরাও যথেষ্ট খুশি।