রানা দাস, পূর্ব বর্ধমান : ত্রাণ-দুর্নীতির অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের কালনায় গ্রেফতার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। ধৃত তৃণমূলের ব্লক সভাপতির নাম প্রণব রায়। তৃণমূলের ব্লক সভাপতির অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে হাজারখানেক সরকারি ত্রিপল। তৃণমূল নেতার অফিসে মিলেছে সরকারি হুইল চেয়ার, অক্সিজেন সিলিন্ডার। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল অভিযানে নামে পুলিশ। তৃণমূলের ব্লক পার্টি অফিসে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে কালনা থানার পুলিশ। তৃণমূলের ব্লক সভাপতির অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর ত্রাণ-সামগ্রী। 

Continues below advertisement

সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দিগন্ত পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকজন গ্রামবাসীর নামে ভুয়ো অ্য়াকাউন্ট খুলে ১০০ দিনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাতে পুলিশ কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই ঘটনায় অভিযোগ পত্রে দিগন্ত পাল ছাড়াও কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও জেলার সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা-সহ ১৭ জনের নাম আছে। 

পরীক্ষা না করেই নেওয়া হয়েছে রক্ত, রক্তদাতাদের 'মোটিভেশনাল চার্জ', সোনারপুরের হাসপাতালে এ কী কাণ্ড 

Continues below advertisement

ত্রাণ-দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্য়ায়। ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে, উদ্ধার হয়েছে থরে থরে ত্রিপল। অন্যদিকে, এই একই অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের ৪ চার নেতা-কর্মী। রাজ্য়ে তৃণমূল জমানা শেষ হতেই সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ। পরপর গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। কখনও কাউন্সিলর, কখনও ব্লক সভাপতি, কখনও প্রাক্তন বিধায়ক - বাদ নেই কেউই। এক মাসও হয়নি রাজ্য়ে ক্ষমতা থেকে সরে গেছে তৃণমূল। এর মধ্য়েই একের পর এক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক কাউন্সিলর। শুধুমাত্র শেষ ৩ দিনেই গ্রেফতার হয়েছেন ৫ জনের বেশি কাউন্সিলর। কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জোরজুলুমের অভিযোগ। আবার কারও নাম জড়িয়েছে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে। কেউ সিন্ডিকেট রাজকে মদত দিয়েছেন। কেউ বা ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ। 

তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ 

কারও জমি দখলের অভিযোগ। কেউ অভিযোগ তুলছেন ভেড়িতে মাছ চাষ বন্ধ করে দেওয়ার। এমনই একাধিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল নেতা ও দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়দের একাংশ। এখানেই তৃণমূল নেতার বিশাল বাড়ি রয়েছে। আজ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে চোর চোর স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনা নিয়ে রবিউল ইসলামের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফোন করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ ছিল।