হংসরাজ সিংহ, পুুরুলিয়া: বাঘবন্দি করতে সুন্দরবন থেকে আনা হয়েছে বিশেষজ্ঞ দল। ছাগলের টোপ দিয়ে পাতা হয়েছে একাধিক লোহার খাঁচা। কিন্তু তার দেখা নেই। পায়ের ছাপ দেখে বাঘের আতঙ্কে কাঁপছে পুরুলিয়ার বোরো এলাকার বাসিন্দারা। বন দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।
এখনও তার দেখা মেলেনি। মাটিতে মিলেছে তার পায়ের ছাপ। সেইসঙ্গে মঙ্গলবার বান্দোয়ান থানার গঙ্গামান্যা এলাকায় উদ্ধার হয়েছে একাধিক গবাদি পশুর দেহ। তাতেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া এলাকার বাসিন্দাদের। পায়ের ছাপ কি বাঘের না বাঘিনীর? চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বনকর্মীরা। শুরু হয়েছে বাঘ ধরার তৎপরতা। ছাগলের টোপ দিয়ে পাতা হয়েছে একাধিক খাঁচা। বাঘ ধরতে সুন্দরবন থেকে এসেছে, ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিশেষ টিম।বাঘের করিডর চিহৃত করে ২০ টি জায়গায় লাগানো হয়েছে ট্র্যাপ ক্যামেরা।
অন্যদিকে, গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৈপীঠের বিভিন্ন জায়গায় বাঘের আতঙ্ক ছড়ায়। রবিবার রাতে কিশোরীমোহনপুরে ধরা পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ। সোমবার সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয় ধুলিবাসানির জঙ্গলে। এরপর ফের গুড়গুড়িয়া ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের গৌড়েরচক গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান গ্রামবাসীরা। দেখা দেয় আতঙ্ক। বাঘের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, ঝাড়গ্রামেও। বন দফতর সূত্রে খবর, গত ৩ দিন ধরে পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে বাঁশপাহাড়ি এলাকায়। কিন্তু বাঘের দেখা মেলেনি। সব জায়গাতেই জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামগুলিতে মাইকে প্রচার করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে বন দফতরের পক্ষ থেকে। বনকর্মীদের দাবি, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
এর আগে ওড়িশার সিমলিপাল থেকে পালানো বাঘিনীকে গত ২৯ ডিসেম্বর বাঁকুড়ায় বন্দি বানাতে সক্ষম হয় বন দফতর। ওড়িশার সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান থেকে পালিয়ে এ রাজ্যের বেলপাহাড়ির কটাচুয়ার জঙ্গলে চলে আসে বাঘিনী জিনত। কাঁকড়াঝোড়ের ময়ূরঝর্নার জঙ্গল থেকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের রাইকা, তারপর পার্শ্ববর্তী কুইলাপাল বিটে কেশরার জঙ্গল হয়ে মানবাজারের ডাঙ্গরডির জঙ্গলে টের পাওয়া যায় তাঁর অস্তিত্ব। ড্রোনের সাহায্য়ে শুরু হয় নজরদারি। গোঁসাইডিহির জঙ্গলে বাঘিনীকে লক্ষ্য় করে ঘুম পাড়ানি গুলি ছোড়া হয়। তাতেই বাগে আসে বাঘিনী।
আরও পড়ুন: Malda TMC Worker Death: মালদায় তৃণমূলকর্মী খুনে গ্রেফতার জাকির ঘনিষ্ঠ হামজা