নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দিন কয়েক আগেই দেখা করে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতে দুই দিনের সফরে এলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। প্রায় ১০ বছর পর থানি এলেন এদেশে। বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। সৌজন্যের এখানেই শেষ নয়। দুজনের দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর স্বাক্ষরিত হল একাধিক মউ ।
দুই দেশ আগামীতে কূটনৈতিক সম্পর্ককে একটা ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে আশা শেখ তামিমের। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জ্বালানি, সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ অংশীদারিত্বে কাজ করতে পারে। আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এদেশে একটি বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন। আগামীতে ভারতে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৮৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কাতার। প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ করা হবে । ২০৩০ সালের মধ্যে, কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ভারতে দফতরও খুলতে পারে। কাতারের আমিরের এই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কাতারের কাছে গ্যাস এবং তেলের বিশাল মজুদ রয়েছে, অন্যদিকে ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আমির দুটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রথম চুক্তিটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়ে এবং দ্বিতীয়টি সংশোধিত দ্বৈত কর এড়ানোর বিষয়ে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দুজনের কথায় উঠে আসে ইজরায়েল-হামাস প্রসঙ্গও।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ওমান এবং কুয়েতের পরে কাতার জিসিসি-র অন্তর্ভুক্ত পঞ্চম দেশ , যাদের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বেআইনি অর্থ পাচার, মাদক পাচার, সাইবার অপরাধ সবরকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও কাতার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত কাতারের এই নৈকট্য পাকিস্তানের হৃদকম্প বাড়াতে পারে। পাক রাজনৈতিক বিশ্লেষক কামার চিমার মতেও, কাতার এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আরব বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বোঝাপড়া বৃদ্ধি, অন্যদিকে তাদের দেশের গুরুত্ব ক্রমেই কমে যাওয়া চাপে ফেলতে পারে পাকিস্তানকে। ইন্ডিয়া টিভির এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, কামার চিমা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই যে ব্যক্তিগতভাবে কাতারের আমিরকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন, তা প্রতীকীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর, কাতার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিল। ভারত এর জন্য কাতারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। কাতারের আমিরকে এইভাবে স্বাগত জানানোর আসলে ভারতের কৃতজ্ঞতাপ্রকাশেরই প্রয়াস।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আরব বিশ্বে ভারতের জায়গাটা দিনকে দিন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর কূটনৈতিক সম্পর্কের নিরিখে, পাকিস্তানের জায়গাটা দ্রুত দুর্বল হচেছে । মুসলিম বিশ্বে পাকিস্তানের মিত্র-রাষ্ট্রগুলিও ভারতের দিকেই ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে,ভারত কাতারের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া পাকিস্তানের হৃদকম্পন বাড়াবে।