সুকান্ত মুখোপাধ্যায় কলকাতা : ভয়ঙ্কর ঘটনা হাসপাতালে। শিরোনামে আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজ । এবার হাসপাতালে লিফটের মধ্যে ১ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটল। হাসপাতালের ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফটে আটকে ওই ব্যক্তির মৃত্য়ু ঘটে বলে অভিযোগ। আজ ভোরবেলা বিষয়টি নজরে আসতেই হইচই পড়ে যায়।
কে এই মৃত ব্যক্তি ?
স্থানীয়সূত্রে খবর, মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় । বয়স ৪০। তিনি দমদমের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ছেলের চিকিৎসার জন্য আর জি কর হাসপাতালে যান ওই ব্য়ক্তি। ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটে ৪ বছরের ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আটকে পড়েন ওই তিনি। উদ্ধারকারীরা পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিজনদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে যায় টালা থানার পুলিশ।
কী কারণে মৃত্যু?
অভিযোগ, ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফটে কোনও চালক না থাকাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ, লিফটি কিছুটা উপর দিকে যায়, তারপর আবার নেমে আসে। একবার ওপর থেকে সোজা নেমে আসে। তারপর আটকে যায় দরজা। আরও ঘণ্টাখানেক খোলেনি লিফটের দরজা। লিফটের ভেতর থেকে আর্ত চিৎকার ভেসে আসে। কিন্তু রাতে কেউ সেই আওয়াজ শোনেনি। চালক না থাকায় লিফটে আটকে মৃত্যু, নাকি লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর জানানো হয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরফে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যদি যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে কেন তার রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি? দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
পরিবার কী বলছে ?
পরিবারের তরফে জানা যাচ্ছে,অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার, বাড়িতেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই পড়ে গিয়ে তাঁর ৪ বছরের ছেলের কনুই ভেঙে যায়। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ছেলেকে নিয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন অরূপ। ট্রমা সেন্টার বিল্ডিংয়ের ২ তলায় ছেলের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে, লিফটে ৫ তলা থেকে ২ তলায় আসছিলেন তাঁরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে, ২ তলায় নামার পরিবর্তে লিফটটা আটকে যায়। অনেকক্ষণ আটকে থাকার পর, লিফট সোজা বেসমেন্টে চলেও আসে। দরজাও খোলে। কিন্তু বেসমেন্টে এই লোহার গ্রিল থাকায় বের হতে পারেননি তাঁরা।
