মুর্শিদাবাদ : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একের পর এক ট্যুইস্ট। কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন, উপনির্বাচনে লড়বেন না। আর এখন বলছেন, ১০ জন কর্মী থাকলেও তাঁদের নিয়েই প্রচারে বেরোব,ভোটে লড়ব। নতুন ঘোষণা করলেন রেজিনগরের মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। বললেন, দলনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেই প্রার্থী পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছি। সকাল ১০.৫২ নাগাদ প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেন রবিউল আলম। এরপর বেলা ১২.৩০ টা নাগাদ, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বদল করেন মমতা সর্বভারতীয় TMC প্রার্থী। সিদ্ধান্ত বদল করে রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, তিনি পার্টি সুপ্রিমো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ভোটে লড়াই করব। আজ থেকেই প্রচারে নামব'।
রবিউলের দাবি, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা করার পরই দলীয় নেতৃত্বের তরফে ফোন আসে। তাঁকে লড়াই করার জন্যই বলা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি ভোটে লড়াই করবেন। তাঁর কথায়, ' হ্যাঁ দিদি আমাদেরকে বললেন ... তো দিদির বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না। তাই আমি প্রার্থীপদ বহাল রাখছি'
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, বেলডাঙা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর, নিরাপত্তার আশ্বাস মিলতেই তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। কিন্তু পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের সঙ্গে রাজনীতি বিষয়ে কথা হয়নি। অন্য বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে তিনি জানান, পরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবেন।
এই প্রসঙ্গে রেজিনগর উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, ' ওরা পাল্টিবাজ পার্টি। ওরা পাল্টি খেলেন কি খেলেন না , সেটা রেজিনগরের বিষয় নয়। রেজিনগরের মানুষ শিল্পের ধোঁয়া দেখতে চায়। সেটা বিজেপিই দিতে পারে। '
সকাল ১০.৫২ নাগাদ মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। এত অল্প সময়ে নতুন প্রতীক চিহ্ন ভোটারদের চেনাতে পারবেন না বলে দাবি করেন রবিউল আলম চৌধুরী। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এই ঘোষণা করেন তিনি। শুক্রবার নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর রবিউলের এই ঘোষণায় চমকে যান সকলেই। প্রশ্ন ওঠে কেন তিনি রণে ভঙ্গ দিলেন। তবে ঠিক তার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই রবিউল ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে দাবি করেন, ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। এরপরই নাকি দলনেত্রীর নির্দেশ এবং নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন।
আরও পড়ুন : নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর, মমতা সর্বভারতীয় TMC প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা
