নয়াদিল্লি: তৃণমূল থেকে NCPI-তে গিয়ে দিল্লিতে বিশেষ তৎপর বিদ্রোহী শিবির। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে যখন শোনা যাচ্ছে, সেই আবহে লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে পৌঁছলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্য়োপাধ্যায়। NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চিঠিতে সই করলেন। বৈঠক করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সঙ্গেও। ভোট দিয়ে যাঁরা জিতিয়েছেন, তাঁদের হয়ে কাজ করার কথা যেমন জানালেন রচনা, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে দীর্ঘদীনের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও মুখ খুললেন। (Rachna Banerjee)
বিধানসভা নির্বাচনের পর খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। রচনা-সহ দলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ত্রিপুরার রাজনৈতিক দল, NDA-র বন্ধু NCPI-তে। রচনাও সেই বিদ্রোহীদের মধ্যেই রয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে যে চিঠি জমা পড়েছিল, তাতে রচনার সই ছিল না। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করে এদিন চিঠিতে সই করেন তিনি। (TMC News)
আরও পড়ুন: ফের কলকাতা হাইকোর্টে ছুটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, ভবানীপুরের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ
সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রচনা। বলেন, “চিঠিতে সই করা বাকি ছিল। সই করতে এসেছিলাম।” মমতার বিরুদ্ধে কেন এই বিদ্রোহ জানতে চাইলে বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে কখনও বিদ্রোহ করতেই পারি না। দিদির সঙ্গে অনেক বছরের পুরনো সম্পর্ক। তৃণমূলের প্রতীকই উনি। যাঁর চেহারা মানুষ দেখেন, তা ওঁর। দিদিকে আমরা অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। দিদিকে দেখে ভোট হয়েছে। ভোট দেওয়া হয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যাতে আমি ওই কেন্দ্রে কাজ করতে পারি। কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। যা কাজ করা উচিত ছিল, সেই কাজ করতে পারছিলাম না।”
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকারে গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালনের কথা জানিয়েছেন তাঁরা। বিদ্রোহী সাংসদরা আবার সরাসরি বিজেপি এবং NDA-র শরিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রচনার বক্তব্য, “এখন বিজেপি-র সরকার এসেছে। আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী…পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশে দেখতে পাচ্ছি…আমাদের যাঁরা ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন, যে কাজ করার জন্য জিতিয়েছিলেন, তা যদি না করি, শুধু ‘দিদির লোক’ ট্য়াগ নিয়ে যদি ঘুরে বেড়াই শুধু, যে চলো ঘুরি, বিধানসভা কেন্দ্রে যাব, হাত নাড়ব যে দেখো, আমরা তারকা এসেছি। তার পর বেরিয়ে যাব। এটা তো হয় না না!”
আরও পড়ুন: RSS কেন আয়কর দেবে না, কেন রেজিস্ট্রেশন করাবে না? প্রশ্ন কর্নাটক সরকারের, মোহন ভাগবত বললেন…
রচনা আরও বলেন, “আমাদের কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে থাকতে হবে। আমাদের কেন্দ্রের উন্নতি চাই, যা এতদিন হয়নি। উন্নয়ন হবে। কেমন উন্নয়ন হবে, তা শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দিয়েছেন।” বিদ্রোহীদের NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে রচনার বক্তব্য, “দেখা যাক কী হয়। যা হবে, ভালর জন্যই হবে। ভাল কাজ শুরু হয়েছে। ভাল শুনতে হবে, ভাল দেখতে হবে।”
অন্য দিকে, NCPI-তে যাওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা জানিয়েছেন, NDA-র সঙ্গেই কাজ করবেন তাঁরা। রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে, শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
