ঐশী মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ বিশ্বাস ও বিটন চক্রবর্তী, কলকাতা: আজ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধর্নার ২০ দিন। শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে রাজ্য সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন চাকরিহারারা। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। 

আরও পড়ুন, কালীঘাটে ASI-র গাড়িতে ধাক্কা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর গাড়ির ! লাইসেন্স বের করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য..

শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে রাজ্য সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন চাকরিহারারা। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেও প্রোটোকল মেনে চিঠি লেখা হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এদিকে রাজ্য় সরকারকে দেওয়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনের অন্য়তম মুখ, চিন্ময় মণ্ডলকে তলব করা হয়েছে বিধাননগর উত্তর থানায়। 

পেটে লাথি পড়েছে, তাই আন্দোলন আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। রবিবার ছিল ধর্না আন্দোলনের ১৯ তম দিন এখনও খোলা আকাশের নীচে রাস্তায় বসে আছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়ে রাজ্য সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা। সরকারপক্ষ রাজি না হলে, বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

অন্যদিকে এবার আন্দোলনকারী চিন্ময় মণ্ডলকে তলব করল পুলিশ। আন্দোলনকারী চাকরিহারা শিক্ষক হবিবুল্লাহ বলেন, ওঁরা (রাজ্য সরকার) নোটিফিকেশনটা যদি করতে চান,আমাদের সঙ্গে আলোচনাটা...মানে আমরা জানতে চাইছি ওঁরা (রাজ্য সরকার) আমাদের নিয়ে কী ভাবছেন। এটা তো বিশাল কিছু চাওয়া নয়। আমাদের নিয়ে ভাবনা...তা আমরা জানব না আমাদের নিয়ে কী ভাবছেন? 

চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেও কী নিয়ে আলোচনা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শিক্ষামন্ত্রী  ব্রাত্য বসু বলেন, ওঁরা (চাকরিহারা) একটা কথা বলেছেন, সেটা আমরা শুনেছি। আমাদের দফতরের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ কালকে ওঁদের (চাকরিহারা) সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং যে চিঠি ওঁরা দিতে চাইছেন, সেই চিঠি ফের ঘুরিয়ে একটা ঠিকঠাক ফরম্যাটে যাতে দেন, সেটার আবেদন আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আগামীকাল কোনও সরকারি অফিসার নিশ্চয়ই করবেন।  বিরোধী দলনেতা  শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকার নেই পশ্চিমবঙ্গে। এই সরকারের লালবাতি জ্বলে গেছে। এই সরকারকে আমি আগেও বলেছি ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, আগামীদিনে ৩২ হাজার প্রাথমিক, OBC-র জট, সঙ্গে সঙ্গে DA দেওয়ার যে প্রাথমিক রায়, এই চারটি অস্ত্রে চতুর্মুখী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁকে পঙ্কিল, পাকে আবর্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, চাকরিহারাদের ধর্নাস্থলের জন্য প্রশাসনের তরফে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ছাউনি তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই বায়ো টয়লেট বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি হলে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিকাশ ভবন চত্বর ছেড়ে সেন্ট্রাল পার্কে ধর্নাস্থল সরিয়ে আনবেন বলে জানিয়েছেন। 

এদিকে রাজ্য় সরকারকে দেওয়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনের অন্য়তম মুখ, চিন্ময় মণ্ডলকে তলব করা হয়েছে বিধাননগর উত্তর থানায়। সোমবার বিকেল চারটেয় তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইমেলে পাঠানো নোটিসে লেখা রয়েছে, হাজিরা এড়ালে আইনানুগ ব্য়বস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনকারী চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, আন্দোলনটা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। নিশ্চয়ই সহযোগিতা করব। কত প্রশ্ন আছে করে, উত্তর দেব। মিথ্য়ে ধারা দেওয়া হয়েছে। চাকরি ফেরত চাইছি বলেই এসব হচ্ছে।এর আগেও আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে থানায় তলব করা হয়েছিল।