রেজিনগর: গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রসের প্রচারে রেজিনগরে বিপত্তি। শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। প্রচার গাড়ি থেকে নেতার ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত শিশু। নেতার ছোড়া লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মাটিতে পড়ে জখম শিশু, অভিযোগ পরিবারের। দুটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসার অবনতি হওয়ায় NRS-এ স্থানান্তর। অবশেষে NRS-এ রেফার করা হয় শিশুটিকে, চিকিৎসা চলাকালীন হাসাপাতালে মৃত্যু। গত রবিবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রসের মিছিল চলছিল বেলডাঙায়। প্রচারের গাড়ি থেকে ছোড়া লজেন্স কুড়োতে যায় জশমিন খাতুন।

Continues below advertisement

পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রেজিনগরে উপ নির্বাচনের ভোট প্রচার চলছিল। রেজিনগরের একটি গ্রামে মিছিল বেরিয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রচারে। সেই মিছিল থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে লজেন্স ছুড়ছিলেন। সেই লজেন্স কুড়োতে গিয়ে ৬ বছরের একটি ছোট্ট শিশু পড়ে যায়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে আচমকা পড়ে গিয়ে। সেখান থেকে তিনটি হাসপাতালে ঘুরে NRS হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় যখন, তখন পর্য়ন্ত আর বেঁচে ছিল না সেই শিশু। 

প্রচারে প্রচুর বাজনা বাজছিল, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বের হয়েছিল মিছিল। সেখানেই লজেন্স কুড়োতে গিয়েছিল সেই ছোট্ট শিশুটি। ভোট প্রচারের জায়গায় প্রবল ভিড় ছিল। তাই সেই ভিড়েই পড়ে যায় শিশু। পরিবারের সদস্যরা শোকে মর্মাহত। NRS-এ ময়নাতদন্ত হচ্ছে। এরপরই দেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর তা বহরমপুরের উদ্দেশে রওনা হবে। পরিবারের একটাই দাবি যে যে দলের প্রচারে এমন ঘটনা হল, তাদের তরফে কোনও যোগাযোগ রাখা হয়নি তাদের সঙ্গে। 

Continues below advertisement

শিশুর আত্মীয় ইউসুফ শেখ জানিয়েছেন, 'প্রচারটি হচ্ছিল গ্রামের মধ্য়ে দিয়ে। এখানে গ্রামের এলাকার ছেলে-মেয়ে। তারা স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল। সেই সময় ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়েছিল বাচ্চাটি। এরপরই আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। দুটো হাসপাতালে ভাল করে দেখা হয়নি বাচ্চাটিকে। এরপর NRS-এ নিয়ে আসা হয়। এখানে ভর্তি করিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এরপরই বাচ্চাটি মারা যায়।

উল্লেখ্য, রেজিনগরে উপ নির্বাচনে আগে ইতিমধ্য়েই হুমায়ুন কবীরের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতে শক্তিপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। আনারুল হক ও রমেশ শেখ ও নুরুল হক-এই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এদের বিরুদ্ধে পুরনো বিভিন্ন যে মামলা, সেই মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল, যেহেতু নির্বাচনের সময় কমিশনের নির্দেশ রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে, সেই ওয়ারেন্টগুলিকে এক্সিকিউট করার জন্য, এবং সেই জন্যই এই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।