ঝিলম করঞ্জাই, সন্দীপ সরকার ও সত্যজিৎ বৈদ, কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ৩ দিনের ব্যবধানে দু'জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হল! আর দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই কমন ফ্যাক্টর শৌচাগার! শুক্রবার ছেলেকে শৌচাগারে নিয়ে যেতে গিয়েই লিফটে উঠেছিলেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এদিন প্রাথমিক চিকিৎসার পর শৌচাগারে যেতে চেয়েছিলেন বিশ্বজিৎ সামন্তও।

Continues below advertisement

শুক্রবার অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সোমবার বিশ্বজিৎ সামন্ত। চিকিৎসার জন্য় আর জি কর হাসপাতালে এসে, প্রাণ হারাতে হয়েছে দু'জনকে। আর দু'টো ঘটনাতেই সামনে এসেছে একটা কমন ফ্যাক্টর - শৌচাগার!

শুক্রবার লিফট-দুর্ঘটনায় নিহত অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের স্ত্রী দাবি করেছেন, সেদিন ছেলেকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য়ই, এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে যেতে হয় তাঁদের। তখনই লিফটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। মৃত অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দিদি সুতপা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলছেন, 'বাথরুমটা খুলে দিলে এই ঘটনা ঘটতই না।' আর সোমবার আর জি কর মেডিক্য়ালে চিকিৎসা করাতে আসা বিশ্বজিৎ সামন্তও শৌচাগারে যেতে চেয়েছিলেন। কিনতু, ট্রমা সেন্টারের সামনের শৌচাগারে তখন তালা!

Continues below advertisement

পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ শরীরেই, হেঁটে হাসপাতালের মেন গেটের সামনে যেতে হয় বিশ্বজিৎ সামন্তকে। মৃতের স্ত্রী ইলা সামন্ত বলছেন, 'পেশেন্ট পার্টি, পেশেন্ট আছে, সে অসুস্থ, তাঁকে তাঁরা ট্রিটমেন্ট করেছে, কী করে বলে যে হেঁটে হেঁটে সেখানে বাথরুমে নিয়ে যেতে? পেশেন্টদের জন্যে তো একটা নীচে বাথরুম করা দরকার।' আর জি কর মেডিক্যালসের এমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার তাপস প্রামাণিক বলছেন, গ্রাউন্ড ফ্লোরে মাত্র ১টাই শৌচাগার রয়েছে। তবে তা রোগীদের ব্যবহারের জন্য নয়! কিন্তু,আর জি করের মতো, কলকাতার সরকারি হাসপাতালে শৌচাগার নিয়ে এই সমস্য়া কেন?

চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'শৌচাগার আর ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার তো মানুষের অধিকার। যে কসমিক চেঞ্জ হচ্ছে, সেই ব্যবস্থাটুকু থাকবে না। সেটাই যদি না থাকে তাহলে কীসের উন্নয়ন'। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, ওই টয়লেটের মেরামতি হচ্ছে। গন্ডগোল আছে, তলা দিয়ে জল বেরিয়ে যায়। এই আবহে পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলছেন, 'RG কর এখন একটা মৃত্য়ুর ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে।+RG কর এক যমপুরীতে মৃত্য়ু হয়েছে।'

সব মিলিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের!