সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: আর জি কর-কাণ্ডে (RG Kar Case) কাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি (Supreme Court) । পরিবারের আবেদন নিয়ে কাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। CBI তদন্তে কোথায় কোথায় অসঙ্গতি, উল্লেখ করে মামলা। উপযুক্ত তদন্ত চেয়ে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আবেদন। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই কাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানি।

আর জি কর-কাণ্ডে ,নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে প্রথমে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তাঁরা সুপ্রিমকোর্টে যান। দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে তাঁদের আবেদনের মূল বিষয়বস্তু ছিল, সিবিআই তদন্তের কোথায় কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে ? কলকাতা হাইকোর্টের কাছেও পরিবারের বক্তব্য ছিল, তাঁরা কিন্তু এই মামলায় প্রথম থেকেই কোথাও গিয়ে তাঁরা সিবিআই এর জন্য আবেদন করেনি। বা সিবিআই-কে তদন্তভার দেওয়া হোক, এই মর্মেও তাঁরা কোথাও গিয়েও আবেদন করেননি।

ফলত আদালত তাঁরা ঠিক মনে করেছে যে, এই মামলা সিবিআই-কে হস্তান্তর করা উচিত। তাই তারা হস্তান্তর করেছে। সেই সিদ্ধান্তকে পরিবারের তরফ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে। মান্যতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁদের শুরু থেকেই বক্তব্য ছিল, যে সংস্থাকেই তদন্তভার দেওয়া হোক, তাঁরা যেনও ন্যায় বিচার করে। সুবিচার করে। কিন্তু পরিবারের এখন অভিযোগ হচ্ছে, সিবিআই-এৎ ভূমিকায় তাঁরা খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তাঁদের বক্তব্য হল, তাঁরা একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছে।

নিম্ন আদালতে পরিবারের তরফ থেকে তাঁরা বহু প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তাঁরা সিবিআই এর থেকে খুঁজেছেন। কিন্তু সিবিআই এর তরফে সেই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি বলেই অভিযোগ নিহত চিকিৎসকের পরিবারের। ফলত তাঁরা সিবিআই এর বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেই প্রশ্নগুলি একেবারে মামলার শেষদিন পর্যন্ত, অর্থাৎযখন গতকাল, আরজিকর মামলায় সাজা ঘোষণা হল,  সেইসময় পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তরগুলি কিন্তু অধরা থেকে গেল। ফলে সেই মর্মেই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। 

প্রথমে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজেলাসে। কিন্তু মাননীয় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেছিলেন, যেহেতু এই মামলা, কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন থেকে নজরদারিতে হচ্ছে। এই মামলা সুপ্রিমকোর্টেও বিচারধীন রয়েছে। ফলত এই মামলার ক্ষেত্রে তাঁর কিছু করা সম্ভব নয়। উচ্চতর আদালত থেকে এই বিষয়ে Clarification বা স্পষ্ট দিক নির্দেশ নিয়ে আসলে, তারপরেই সিঙ্গল বেঞ্চের তরফে, এই মামলা গ্রহণ করা সম্ভব। 

কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গলবেঞ্চের পরেই, নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে তাঁরা একেবারে সরাসরি, সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির এজেলাসে গেলেন। এই ইন্টারলোকেটারি  অ্যাপলিকেশন বা আবেদন পত্র দাখিল করলেন। এবং তাঁরা দাখিল করে বললেন যে, এই মামলায়, সাজা ঘোষণার দিন, ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত করা হয়েছিল। ফলত সেই সময়ের মধ্যে বা তার আগে পরে, সুপ্রিম কোর্টের সুবিধা অনুযায়ী এই মামলা গ্রহণ করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি সেই মামলাতে গুরুত্ব দিয়ে আগামীকাল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আরও পড়ুন, 'বিশ্বাস করি হয়তো সম্পর্ক একদিন ভাল হয়ে যাবে', ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যুতে স্থানীয়দের সতর্কও করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

(খবরটি সম্প্রতি ব্রেক করা হয়েছে। বিস্তারিত কিছুক্ষণ পরই দেওয়া হচ্ছে। একটু পরে রিফ্রেশ করুন। জেলা থেকে শহর, দেশ, বিদেশ, বিনোদন থেকে খেলা, বিজ্ঞান থেকে প্রযুক্তি সহ অন্যান্য সমস্ত খবরের আপডেটের জন্য দেখতে থাকুন এবিপি আনন্দ ও এবিপি লাইভ)