কলকাতা: আর জি কর মেডিক্য়ালের চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্য়ু! মৃতের নাম শুভজিৎ আচার্য। গতকাল হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে আনা হয় বারাসাতের হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্য়ু হয় ওই চিকিৎসকের। তাঁর দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য়। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, '২০০২-এর ভোটার লিস্টে নাম নেই', সেই পরিবারের সদস্য পেয়েছেন BLO-র দায়িত্ব ! গুরুতর অভিযোগ নদিয়ায়

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত, একের পর এক সরকারি হাসপাতাল থেকে সামনে আসছে যৌন নিগ্রহ, ধর্ষণের হুমকির মতো চাঞ্চল্য়কর সব অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য় সরকারের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় যে কড়া পদক্ষেপগুলি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারই বা কী হল? কোথাও নাবালিকা রোগীর যৌন নিগ্রহ! কোথাও জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণের হুমকি! কোথাও ধর্ষণের উদ্দেশ্য়ে নার্সের ওপর হামলার অভিযোগ! এই সমস্ত চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ উঠছে সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য়কেন্দ্রে! আরও মারাত্মক ঘটনা হল, এই অভিযোগগুলো সামনে আসছে আর জি কর-কাণ্ডের মাত্র একবছর পর! যা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাড়া ফেলে দেওয়া আর জি কাণ্ডের পর তাহলে কী বদলাল? এক্ষেত্রে রাজ্য় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় যে কড়া পদক্ষেপগুলি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারই বা কি হল? 

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নির্দেশ দেওয়ার পর তার ভিত্তিতে কী ব্য়বস্থা নেওয়া হল, বাস্তব পরিস্থিতি আদৌ পাল্টাল কিনা, সেদিকে তিনি পরে কড়া নজর দিলেন না কেন? ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আর জি কর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ই রাজ্য় সরকারের আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, CCTV ক্য়ামেরা বসানো, নিরাপত্তা মোতায়েন, পুরুষ ও মহিলা ডাক্তারদের জন্য় আলাদা ডিউটি রুম, শৌচাগার তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যাওয়ার জন্য় বায়োমেট্রিক অ্য়াকসেসের বিষয়ে রাজ্য় সরকার কী করেছে? কাজের কী অগ্রগতি হয়েছে?

রাজ্য় সরকারের আইনজীবী সময় চাওয়ায়, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সরাসরি বলেন, আপনাদের তো অ্য়াকশন নিতে হবে। একই দিনে CCTV, আলোর ব্য়বস্থা-সহ কাজের গতি নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, কোথাও ৫০%-এর ওপরে কাজ হয়নি। ডিউটি রুম তৈরির কাজ ৪৯%, ওয়াশ রুম ৪০%, আলোর ব্য়বস্থা ৩৩%, CCTV ২৬%... কাজ এত ধীরগতিতে হচ্ছে কেন? আমরা ৯ অগাস্ট থেকে বিষয়টা দেখছি। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাজ্য় সরকারের কাজে ঢিলেমি দেখেও তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কোনও কড়া পদক্ষেপ নেননি কেন?  

শুনানিতে রাজ্য় সরকারের কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরও, ৭ নভেম্বর যখন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় শেষবার প্রধান বিচারপতি হিসেবে আর জি কর মামলা শোনেন, তখন সেখানে সেখানে সরকারি হাসপাতালে সিসিটিভি, শৌচাগার, ডিউটি রুম, রেস্ট রুম তৈরির কাজ শেষ হয়েছে কি না,সেই প্রসঙ্গটাই ওঠেনি। তিনি শুধু বলেন, আমার সতীর্থ দুই বিচারপতি বেঞ্চে থাকবেন। তাঁরা বিষয়গুলো দেখবেন। যা নিয়ে তখনই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।