কলকাতা: লিফটে ঘষটে প্রাণ চলে গিয়েছে তরতাজা যুবকের। কিন্তু অরূপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্য়ুর পরও বদলায়নি পরিস্থিতি। এখনও যে হুঁশ ফেরেনি আর জি কর হাসপাতালের, আবারও তার প্রমাণ মিলল। এবার দু'টি লিফট আটকে গেল। মধ্যরাতে এমন বিপত্তি ঘটে যে স্বয়ং লিফটম্যানই ভিতের আটকে পড়েন। সকালে আবার আটকে পড়েন রোগী, লিফ্টম্যান-সহ রোগীর পরিবারের লোকজন। তাঁদের উদ্ধার করতে কালঘাম ছুটে যায় রীতিমতো। (RG Kar Lift Crisis)

Continues below advertisement

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গতকাল গভীর রাতে প্রথমে অ্যাকাডেমিক বিভাগে প্রথমে লিফট চলতে চলতে হঠাৎ থেমে যায়। ভিতরে আটকে পড়েন স্বয়ং লিফটম্য়ান। বেশ কিছু ক্ষণ পর দরজা খুলে উদ্ধার করা হয় তাঁকে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। (RG Kar Lift Tragedy)

এর পর, বুধবার সকালে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে। সকাল ৭টা বেজে ৫২ মিনিটে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের একটি লিফট আটকে যায়। এই ক্যাজুয়ালটি বিভাগ একসময় এমার্জেন্সি বিভাগ ছিল। অভয়াকাণ্ডের পর সেখানে ভাঙচুর হয়। সেখানকার চারতলাতেই অভয়ার সঙ্গে নৃশংস ঘটনা ঘটে। এদিন সেখানকার ১ নম্বর লিফটটি আটকে যায়। ভিতরে আটকে পড়েন রোগী, লিফটম্যান-সহ প্রায় সাত জন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আটকে যায় লিফটটি। দরজা খুলছিল না কিছুতেই।

Continues below advertisement

দরজা খুলছে না বোঝা যেতেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। সেখানে মোতায়েন পুলিশকর্মী, সিআইএসএফ কর্মীরা দ্রুত পূর্ত দফতরদের টেকনিশিয়ান ডেকে বিকল লিফট থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এক মিনিটের মধ্যে আলাদা চাবি দিয়ে লিফটের দরজা খুলে বের করে আনা হয় সকলকে। কিন্তু ট্রমা কেয়ারের লিফটে একজনের মৃত্যুর পরও কেন হুঁশ ফিরল না, উঠছে প্রশ্ন। 

পর পর এমন ঘটনায় রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন তাঁরা। পূর্ত দফতরের সঙ্গে কথা বলা হবে এ নিয়ে। তবে এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে আগামী দিনে রোগী এবং তাঁদের পরিজনরা লিফটে উঠতেই ভয় পাবেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে, গত ২০ মার্চ প্রায় ৪৫ মিনিট লিফটে আটকে থেকে মৃত্যু হয় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেসমেন্টে থেমে যায় লিফট। আটকে পড়েন স্ত্রী এবং সন্তানও। সেখানে লিফটের দরজা খুললেও, গ্রিলের গেটে তালা ছিল। লিফট এবং গ্রিলের মাঝে দাঁড়ান তিন জন। আচমকা লিফট উপরে উঠতে শুরু করলে দরজায় আটকে যান অরূপ। লিফটের নীচের গর্তে পড়ে যান অরূপের স্ত্রী এবং ছেলে। এর পর অরূপের দেহ আছড়ে পড়ে স্ত্রীর কোলে।