কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লিফটের মধ্যে ১ ব্যক্তির মৃত্যু। অভিযোগ, হাসপাতালের ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফটে এক ঘণ্টা আটকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।  ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের লিফটে ছেলে ও স্ত্রী-সহ আটকে পড়ে মৃত্যু অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। চিৎকার করে বারবার সাহায্য চাইলেও মেলেনি বলে অভিযোগ। পাঁচতলা উঠে আচমকা নেমে লিফটের সজোরে ধাক্কা বেসমেন্টে। কোথায় রক্ষণাবেক্ষণ? উঠছে প্রশ্ন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রতিক্রিয়া হাসপাতালের তরফে। 

Continues below advertisement

লিফটে আটকে পড়ে হৃদরোগে মৃত্যু ওই ব্যক্তির। লিফটে করে পাঁচতলায় ওঠার সময়, আচমকা লিফট নীচে পড়ে যায় বলে অভিযোগ। মৃত ব্যক্তি দমদমের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর। অভিযোগ, ট্রমা বিল্ডিংয়ের লিফটে কোনও চালক না থাকাতেই এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিজনদের একাংশের বিক্ষোভ।

পরে ঘটনাস্থলে যায় টালা থানার পুলিশ। 'লিফট চালক না থাকায় লিফটে আটকে মৃত্যু, নাকি লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে'। দুর্ঘটনার পর জানানো হয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরফে। লিফটে ছিলেন না কোনও চালক। হাসপাতাল জুড়ে অব্যবস্থার অভিযোগ রোগীর আত্মীয়স্বজনদের। 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতাল যেখানে মানুষ একটু স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে যায়। ওখানে গিয়ে জ্যান্ত ফিরে আসা মুশকিল। কি দুর্গন্ধ, দুরবস্থা, নরক হয়ে গিয়েছে। মানুষের জন্য শোওয়ার, থাকার জায়গা নেই, ফুটপাথে, বারান্দায় শুচ্ছে। 

অন্যদিকে, শতরূপ ঘোষ বলেন, 'আর জি করের অভয়ার ঘটনার পর মৃত্যুর পাশাপাশি জুনিয়র্স ডক্টরদের দাবি ছিল হাসপাতালে পরিকাঠামোর উন্নতি করা। তৃণমূল জোর করে ভোটে জিতে বলেছে সব হাসপাতালে সব কিছু ঠিক আছে।' 

গোটা বিষয়টির মধ্যে একটা প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে, মন্তব্য আরজি কর হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অতীন ঘোষের।

অন্যদিকে, দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে। বিদেশ থেকে আনা দামি যন্ত্রের ভেতরে সস্তা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। এর ফলে দামি যন্ত্র ঘনঘন খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে এসেছে হাসপাতালের বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের। একাধিক বিভাগের প্রধান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে খবর।

হাসপাতালের তদন্তকারী কমিটির তদন্তেও বেনিয়ম ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ। এরপরই স্বাস্থ্যভবনকে বিষয়টি জানিয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের বরাত পেয়েছে অভিযুক্ত সংস্থা। ফলে একই ঘটনা অন্য কোনও হাসপাতালে হয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে।