আবির দত্ত, কলকাতা : আর জি কর হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন দমদমের বাসিন্দ অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। লিফটের মধ্যে আটকে মৃত্যু হয়েছে বছর ৪০- এর যুবকের। মৃত্যুর আগের দিন জন্মদিন ছিল অরূপের। এই ঘটনায় আগেই একবার হাসপাতালে গিয়েছিল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল। ফের একবার আর জি করে গিয়েছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল। কীভাবে লিফটে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের বাসিন্দার, সেই উত্তরই খুঁজছে সকলে।
কীভাবে লিফট আটকে মৃত্যু? ফের আর জি কর হাসপাতালে গেল ফরেন্সিক টিম। যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল লিফটে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ফরেন্সিকের বিশেষজ্ঞদের। চাবির বদলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে লিভার সিস্টেমের মাধ্যমে তোলা হয় লিফট, আর জি কর-কাণ্ডে প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই অনুমান করছেন ফরেন্সিক আধিকারিকরা। লিভার সিস্টেমের মাধ্যমে তোলার পরই একের পর এক আঘাত লাগে অরূপের। পুনরায় লিফটের কানেকশন অন করতে গিয়ে বাড়ে বিপত্তি। ছিঁড়ে যায় লিফটের তার। লিভার সিস্টেমে লিফট তোলার সময় নীচে আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই অনুমান করছেন ফরেন্সিক দলের বিশেষজ্ঞরা।
আর জি করে লিফট দুর্ঘটনায় পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্ত্রী ও সন্তানকে অভিশপ্ত লিফট থেকে বের করার পর অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সাহায্য চাইলে চাবি দিয়ে না খুলে বিদ্য়ুৎ বিচ্ছিন্ন করে লিভার ব্য়বস্থার মাধ্য়মে লিফট তোলার চেষ্টা করা হয়। যার জেরে গেট বন্ধ হওয়ার সময় তীব্র ধাক্কা লাগে তাঁর। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। অন্যদিকে, এদিনই আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে তদন্তে যায় লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।
আর জি কর হাসপাতালে লিফট-দুর্ঘটনায়, মর্মান্তিকভাবে মৃত্য়ু হয়েছে অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই ঘটনার তদন্তে ছত্রে ছত্রে উঠে আসছে গাফিলতির অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে, বেসমেন্টে লিফটের দরজা এবং গ্রিলের দরজার মাঝে এই ফাঁকটুকুতে সেদিন স্ত্রী ও সন্তানকে কোনওরকমে কোনওরকমে বের করেন অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এরপর লিফটের দুই দরজার মাঝে দাঁড়িয়ে, দরজা খোলা রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সময় ম্য়ানুয়ালি ওপরে তোলার জন্য় কর্মীরা লিফটের বিদ্য়ুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তখনই লিফটের দু'টো দরজা সজোরে বন্ধ হয়। সেই আঘাতে দরজার মাঝে দাঁড়ানো অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় মারাত্মক আহত হন। এরপর লিফট ওপরে উঠতে শুরু করলে, ঘষতে ঘষতে ওপরে উঠতে থাকেন তিনি।
অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পড়ে যাওয়ার পর যখন সাহায্য চান, তখন লিভারের মাধ্যমে লিফট টেনে তোলার চেষ্টা হয়। এর জেরে তীব্র গতিবেগে লিফট আছড়ে পড়ে। যার জেরে গুরুতর আঘাত পান তিনি। অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের স্ত্রীর দাবি, কখনও বিদ্য়ুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, কখনও বিদ্য়ুৎ সংযোগ ফিরিয়ে, লিফট ওপরে তুলতে গিয়ে বারবার সমস্য়া হয়। যার জেরে একাধিকবার লিফট নীচে গিয়ে পড়ে। শেষবার ধাক্কার অভিঘাতে জখম অবস্থায় স্ত্রীর সামনে এসে পড়েন অরূপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সোমবার আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে তদন্তে যায় হোমিসাইড শাখা। যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ময়নাতদন্তকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। একইসঙ্গে লিফটের ভিডিওগ্রাফিও করা হয় এদিন।
