কলকাতা: আর জি কর কাণ্ডের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ অনিকেত মাহাতো। অভিযোগ, কাউন্সেলিংয়ের সময় ফার্স্ট ইয়ার সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নাম ছিল আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজে। অথচ তাঁকে পাঠানো হয় রায়গঞ্জ মেডিক্য়াল কলেজে। এরপরই রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্য়ালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যান প্রতিবাদী চিকিৎসক। সিঙ্গল বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চ হয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। গত ১১ ডিসেম্বর,সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি প্রশ্ন তোলে, বাকিদের পোস্টিং মেধাভিত্তিক হলে, অনিকেত মাহাতোর ক্ষেত্রে নয় কেন? দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, ২ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোকে পোস্টিং দিতে হবে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেই। বুধবার শেষ হয়েছে সেই সময়সীমা। ইতিমধ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট ছেড়ে দিয়েছেন অনিকেত মাহাতো। তাঁর বক্তব্য, 'অভয়ার ন্যায়বিচারের লড়াই দেখতে পাচ্ছি না, 'আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তাও দেখতে পাচ্ছি না' 'তাহলে ফ্রন্টে থাকবই বা কেন?' স্পষ্ট জানান তিনি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। কী বললেন ?

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, অভিষেকের সভায় যোগ দিতে সফর, গাড়ির বনেটের উপরে বসেই রওনা বাসন্তীর তৃণমূল নেতা নুর ইলাহি গাজির !

Continues below advertisement

তিনি বলেন, অভয়ার ন্যায়বিচার, রাজ্য সরকারের আর্থিক দুর্নীতি, থ্রেট কালচার, এই সমস্ত জায়গা থেকে, পশ্চিম বাংলার বুকে যে, গণ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেই পূর্বাভাসগুলিকে একটা জায়গায়, দমিত করার যে প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টা থেকেই এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ, তাও আমরা, আপনাদের কাছে রেখেছিলাম। তাহলে যদি দেখতে হয়, এই যাত্রাপথটা কেমন ছিল, যে জায়গাটা প্রথমে সামনে আসে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে নিদারুণ পদক্ষেপ, সেই পদক্ষেপকে যদি আমরা দেখি, তাহলে তো একটা পোস্টিংয়ের মিনিমাম মামলা ছিল, তাহলে এখানে কী করা উচিত ছিল, কেন আরজিকরে পোস্টিং হবে অনিকেতের, না রায়গঞ্জে হবে, এই নিয়ে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু অ্যাডভোকেট জেনারেল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁরা আর্গুমেন্ট করলেন কী ? কলকাতা এর জুরিসডিকশন, যে না এর অধিকারেই, হাইকোর্টের এক্তিয়ারেই নেই, এই মামলা বিচার করা হাইকোর্টের এক্তিয়ারেই নেই। এই মামলার বিচার করবে, স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইবুনাল, কারণ ..তাঁরা সরকারি কর্মচারী। তিন মাস এই মামলার শুনানি চলল। সেই জায়গাতেও রাজ্য সরকার হেরে গেল। তারপর তাঁরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানেও তাঁরা হেরে যায়। আবার লড়াই হয়, আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা জায়গা যখন সুস্পষ্ট হয়ে আসছে, তারপর সিঙ্গলবেঞ্চ ২৪ সেপ্টেম্বর রায় দেয়, না আমার পোস্টিং আরজিকরে দিতে হবে, এবং ইমিডিয়েট এফেক্টকে, ..রাজ্য সরকারকে আমাকে জয়েন করাতে হবে। সেই ২৪ সেপ্টেম্বরের অর্ডারের পর, ..এই বছরটা প্রায় অতিবাহিত হয়ে গেল। কই এখনও অবধি তো আমি আরজি কর মেডিক্যালের পোস্টিং পেলাম না।....তাহলে এই হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চূড়ান্ত যে অবনমনের জায়গা , আজকে যদি পশ্চিমবাংলার বুকে দেখতে হয়, তাহলে এই জায়গা ছাড়া কোথায় থাকে ?' প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।