কলকাতা: 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর ২ নেতা হাজির NCPI নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। কলকাতা পুরসভার ২ প্রাক্তন কাউন্সিলর জীবন সাহা, আমিরুদ্দিন ববিকে দেখা গিয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। এবার কি ভাঙতে পারে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর ঘর? উত্তর কলকাতার আরও কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, খবর সূত্রের।
আরও পড়ুন, 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এ ভাঙন অব্যাহত, এবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের
২০ জুলাই বাদল অধিবেশনের আগেই NCPI সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছেন লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা ২০ জন বিদ্রোহী। এমনটাই জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁদের জন্য আলাদা ঘর এবং লোকসভায় বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি NDA-র শরিক হিসেবে কাজ করবেন তারা। সোমবার থেকে সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। সূত্রের দাবি, তার আগেই NCPI সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছেন লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা ২০ জন বিদ্রোহী।তাঁরা NDA-এর হাত ধরতে চলেছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক হয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের।তারপরেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য সংসদে আলাদা ঘর বরাদ্দ করা হচ্ছে। বাদল অধিবেশন থেকেই ট্রেজারি বেঞ্চে অর্থাৎ সরকারপক্ষের দিকে তাঁদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, NCPI-এর নেতা, উপনেতা এবং মুখ্য সচেতক কে হবেন, সেই তালিকা জমা দিতে বলেছেন লোকসভার স্পিকার। রবিবার বিকেল চারটেয় সংসদের পুরনো ভবনে ২০ জন সাংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানেই দলের নেতা, উপনেতা ও মুখ্য সচেতক কে হবেন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। তারপর তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে। সূত্রের দাবি, লোকসভায় NCPI-এর দলনেতা হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উপনেতা বা ডেপুটি লিডার হচ্ছেন শতাব্দী রায়। আর মুখ্যসচেতক হতে চলেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার।
এখন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা NCPI হিসেবে NDA-এর সঙ্গে যোগ দিলে, আগামীদিনে ১৬ সাংসদের তেলুগু দিশম পার্টি এবং ১২ সাংসদের জনতা দল ইউনাইটেডকে ছাপিয়ে NDA-এর সবচেয়ে বড় শরিক হতে চলেছে বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল সাংসদের NCPI। ১৪ জুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করে NCPI-তে মিশে যাওয়ার কথা জানান তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। সেদিন রাতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখাও করেন তাঁরা। অধ্যক্ষকে দেওয়া চিঠিতে, NCPI সাংসদ হিসেবে তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা আবেদন করেন, তারা NDA-এর অংশ হিসেবে কাজ করতে চান এবং তাদের পৃথক বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হোক। এর ঠিক ৫ দিন পর, ১৯ জুন, দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেন তিনি।
