কলকাতা: অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না কেউ। জোড়াফুল প্রতীকও ফ্রিজ। আজ 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম পেল 'কালীঘাট তৃণমূল'। 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক পেল 'কালীঘাট তৃণমূল'। 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' নাম পেল 'ঋতব্রত তৃণমূল'। 'খাম' প্রতীক পেল 'ঋতব্রত তৃণমূল', ২ পক্ষকেই জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, উপ নির্বাচনের আগেই এবার 'খাম-ধোঁয়াশা'। ঋতব্রতদের 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস'-এর প্রতীক খাম। নতুন প্রতীকে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ISF-এর প্রতীকও খাম, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছেন ISF প্রার্থী। কী হবে ISF-প্রার্থীর প্রতীক ভবিষ্যৎ? উঠছে প্রশ্ন।
এই জটিলতার জেরে হাতছাড়া হতে পারে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ-এর অত্যন্ত চেনা ‘খাম’ প্রতীক।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত বা ফ্রিজ করে দেয়। এরপরই তৃণমূলের বিবদমান দুই পক্ষকে আলাদা নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে কমিশন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নতুন প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে ‘খাম’। আর এই একটিমাত্র সিদ্ধান্তই আইএসএফ শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলকে স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীক পেতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে দলকে মোট বৈধ ভোটের অন্তত ছয় শতাংশ পেতে হয় এবং কমপক্ষে দুটি আসন জিততে হয়। অথবা বিধানসভার মোট আসনের তিন শতাংশ বা অন্তত তিনটি আসন জিততে হয়। এই শর্তগুলি পূরণ করলেই তবে কোনও দল ‘স্বীকৃত রাজ্য দল’-এর মর্যাদা পায় এবং একটি নির্দিষ্ট প্রতীক স্থায়ীভাবে তাদের নামে সংরক্ষিত হয়। অন্যথায় স্বীকৃতি না থাকা দলগুলিকে প্রতিবার মুক্ত প্রতীক বা ফ্রি সিম্বলের ওপর নির্ভর করতে হয়।
