আবির দত্ত, রঞ্জিত সাউ ও জয়ন্ত পাল, কলকাতা : তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেন সব্যসাচী দত্ত, তিনি ইতিমধ্যেই একের পর এক অডিও, ভিডিও সামনে এনেছেন। অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, সব্যসাচী দত্ত তাঁকে একবার বলেছিলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কিছু করতে পারবেন না। আমি শেষ কথা।'

Continues below advertisement

তোলাবাজিকাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হতেই খুলে গেছে প্য়ান্ডোরার বাক্স। আর সেখান থেকে এখন বেরিয়ে আসছে একের পর এক অভিযোগ। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী বলছেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তখন যিনি ছিলেন, তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। সব্যসাচী দত্ত বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আপনাকে কিছু করতে পারবেন না। আমি শেষ কথা। উনি তখন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক। উনি তখন বিধাননগরের মেয়র।" 

সোমবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ সব্যসাচী দত্তের রাজারহাটের ফ্ল্যাটে পৌঁছে যায় বিধাননগর থানার পুলিশ। সেখানে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১০টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে আটক করে সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১টা নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেন সব্যসাচী দত্ত, তিনি ইতিমধ্যেই একের পর এক অডিও, ভিডিও সামনে আনছেন।  

Continues below advertisement

একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী বলেন, "এই ভিডিওটা সব্যসাচী দত্ত, তাঁর লোক পাঠিয়েছেন, টাকা নেওয়ার জন্য। বিমল গাঙ্গুলি বলে তাঁর ব্যক্তি প্রতিনিধি টাকা নিচ্ছেন আমার অফিস থেকে। এটা ২০১৮ সালে। আমাকে বললেন আড়াই লক্ষ টাকা একে দিয়ে দিন। আমি আড়াই লক্ষ টাকা এই লোককে দিলাম।" 

এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কে বলল আপনাকে ? উত্তরে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী বলেন, "সব্যসাচী দত্ত। আমার অফিসের ক্য়ামেরায় সিসিটিভি ফুটেজে উঠেছিল।" অভিযোগকারীর দাবি, ফোন করে লাগাতার তাগাদা দিতেন খোদ সব্যসাচী দত্ত। এই মর্মে একটি অডিও সামনে আনেন অভিযোগকারী। তাতে দুইজনের কথোপকথন এরকম...

কণ্ঠ ১: হ্যাঁ, সব্যসাচী বলছিলাম। কণ্ঠ ২ : দাদা, বলুন।কণ্ঠ ১: বলছি দাদা, ১২ তারিখটা যেন মিস্ না হয়, আমি কিন্তু খুব কায়দায় পড়ে যাব। না হলে আমি এতবার আপনাকে বলতাম না।কণ্ঠ ২ : দাদা, আমি সোনা-দানা বেচে, সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি। আপনাকে টাকা দেব বলেছি দাদা। কণ্ঠ ১: ঠিক আছে, ১২ তারিখটা যেন মিস্ না হয়, ঠিক আছে।কণ্ঠ ২ : আমি ১ কোটি টাকা আপনার জন্য ধার করে ব্যবস্থা করে ফেলেছি। 

বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর, প্রাক্তন বিধায়ক, পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্য়ান। তাঁর বিরুদ্ধেই তোলাবাজির ভয়ঙ্কর অভিযোগ। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী বলেন, "আমার কাছে উনি এই আড়াই লক্ষ টাকার পরে ১ কোটি টাকা ওঁর (সব্যসাচী দত্তর) রোজ বায়না ছিল। বাড়ি করতে গেলে টাকা দিতে হবে। বাড়ি ভাঙতে গেলে টাকা দিতে হবে। বাড়ি কিনতে গেলে টাকা দিতে হবে। বেচতে গেলে টাকা দিতে হবে। না দিলে মারবে।" 

মঙ্গলবার সব্যসাচী দত্তকে আদালত থেকে বের করার সময় ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। ছোড়া হয় ডিম, পচা কলা। এক বিক্ষোভকারী বলেন, "যখন পজিশনে ছিলেন মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করতেন না। এদের মারা উচিত। এদের ডিমটা বেশি কিছু না।"

অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, "গরিবদের রক্ত চুষে খেয়েছে।" সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।