কলকাতা: সল্টলেকে (Saltlake) আনন্দলোক হাসপাতালে (Anandalok Hospital) অগ্নিকাণ্ড (Fire Case)। আনন্দলোক হাসপাতালের দোতলায় আগুন। ঘটনাস্থলে দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। আনন্দলোক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক। বাইরে বের করে আনা হচ্ছে রোগীদের।                      

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, 'দোতলায় অপারেশন থিয়েটারের AC থেকে আগুন', AC-তে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অনুমান দমকলের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দোতালার একটি জানলা থেকে লেলিহান আগুন দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা।   

জানা যাচ্ছে, এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দ্রুত অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকী অপারেশন থিয়েটারের পাশে যে রোগীরা আছে তাঁদেরও বের করে আনা হয়। একাধিক রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। দমকল কর্মী ও পুলিশরা তৎপরতার সঙ্গে রোগীদের নিরাপদে সরানোর কাজ করেন। 

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, অপারেশন থিয়েটারের পাশের এসি মেশিন থেকে শর্ট সার্কিট হয়েই এই আগুন লাগে। মুহূর্তে হাসপাতাল চত্বর ও বাইরেও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে খবর।  

হাসপাতালের এক কর্মীর দাবি, 'আমরা এই কালো ধোঁয়া দেখতে পেয়েই, রোগীদের হাসপাতালের অন্য বিল্ডিংয়ে নিয়ে যাই।' এখনও হাসপাতালের বাইরে বহু রোগী বসে আছে, এমনই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনা মনে করাচ্ছে ২০১১-র ৯ ডিসেম্বর ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডকে। ওই সময় আগুনে পুড়ে ও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কার্যত গ্যাস চেম্বার পরিণত হওয়া হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল ৯২ জন রোগীর। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল সকলের। চেষ্টা করেও গ্যাস চেম্বার থেকে বেরোতে পারেননি অসুস্থ, অসহায় মানুষগুলো।          

দমকল ও পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, 'আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হচ্ছে। কোনও রোগী আহত হয়নি। কোথাও কেউ আটকে নেই। সবাইকে নিরাপদে বের করে নেওয়া হয়েছে। তাও আমরা প্রতিটি তলা চেক করে দেখছি কেউ কোথায় আঁটকে আছে কি না। চেষ্টা করা হচ্ছে সকলে যেন নিরাপদে থাকে।'                                        

প্রসঙ্গত, গতকাল বর্ধমানের নবাবহাটে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে,  অন্নপূর্ণা নার্সিংহোমে ভয়াবহ আগুন লাগে। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার মধ্যেই আজ সল্টলেকে আনন্দলোক হাসপাতালে আগুন লাগল।