কলকাতা :  দিলীপ ঘোষ থেকে রাহুল সিনহা, বিজেপির পুরনো কর্মী, পদমর্যাদায় থাকা মানুষদের ফের দলের মূলস্রোতে ফিরে আসার ট্রেন্ড লক্ষ করা গিয়েছে শমীক ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর। এটা কি নতুন স্ট্র্যাটেজি, তথাকথিত আদি বিজেপি ও নব্যদের একই স্রোতে মিলিয়ে দেওয়ার? কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?  রাহুল সিনহাকে নিয়ে এবিপি আনন্দ-র সম্পাদক সুমন দে-কে ( Executive Vice President, ABP Ananda) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সুমন দে : দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা , এরা মেনস্ট্রিম থেকে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরেই তাঁরা আবার ফিরে আসছেন...

Continues below advertisement

শমীক ভট্টাচার্য : আমি ব্যাক করাইনি। বিজেপি এক। কেউ বাইরে নেই। 

সুমন দে : এটা সংলাপের মতো শোনাল। কিন্তু ব্যাক করিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্যই...শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর পুরনোরা ফিরছেন, সেটাই ফ্যাক্ট। 

Continues below advertisement

শমীক ভট্টাচার্য :শমীক ভট্টাচার্যের সময় বলে কিছুই নেই। আমাদের সভাপতিটা একটা বহমানতা। কিছু বিচ্যুতি, কিছু ত্রুটি, কিছু দূরত্ব, ভুলভ্রান্তি তো সব জায়গায় থাকে। হয়ত আমাদেরও ছিল। কোথায় কেউ বসে গেছে? দিলীপ ঘোষ গ্রামে গঞ্জে ঘুরছেন। রাহুল সিনহা  ঘুরছেন। কোথায় কেউ বসে আছেন ? রাহুল সিনহা আমার নেতা ছিল। রাহুল সিনহা প্রেসিডেন্ট ছিলেন যখন আমি জেনারেল সেক্রেটারি ছিলাম। আমাদের বয়সের ব্যবধান খুব একটা বেশি নয়। প্রায় একই সময় থেকে আমরা রাজনীতি করছি। আমরা বহু রাত জেগেছি। এমন সময় গেছে, দোকান বন্ধ হয়ে গেছে , আমরা টিউবওয়েলের জল খেয়ে শুয়েছি। যখন ট্রেনে করে যেতাম আমি, বিছানা করতে পারতাম না...কোনও কাজই পারি না আমি...রাহুল সিনহা করে দিতেন। কী করে ভুলব আমি।

সুমন দে : কিন্তু ট্রেনে বিছানা করার কৃতজ্ঞতা থেকে তো রাহুল সিনহাকে ফেরায়নি...একটা সুনির্দিষ্ট কৃতজ্ঞতা বোধ থাকতে পারে ! 

শমীক ভট্টাচার্য : কৃতজ্ঞতা শব্দটা ভুল, ভালবাসা। আমাদের একটা আন্তরিক যোগাযোগ ছিল। 

রাহুল সিন্হা রাজনীতি জীবন

রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিন্হা। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিন্হা। বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কয়েক দশকের। ছাত্রজীবন থেকেই RSS-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাহুল সিন্হা। ১৯৮০ সালে বিজেপির সদস্য হন। এরপর প্রায় ৯বার বিধানসভা ও লোকসভায় ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন। শেষবার ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে হাবড়া থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৬, ৭ বছর রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন বিজেপির জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন। এবার তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করল বিজেপি।