কলকাতা: অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক 'ফ্রিজ' করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এটা উপরওয়ালার বিচার। সিঁদুর, আলতায় পদ্মফুলের ছবি থাকলে, যেটা দোকানে বিক্রি করা যাবে না। উত্তর ২৪ পরগনা জুড়ে, ব্যারাকপুর জুড়ে এই ফতোয়া জারি করেছিল তৃণমূল। আর তৃণমূলের প্রতীক থাকল কী গেল, তাতে মানুষের কিছু এসে যাবে না। কারণ তৃণমূল বলে কোনও পার্টি নেই। তৃণমূল মৃত। তৃণমূল নির্মূল।
আরও পড়ুন, "জোড়াফুল যেখানে থাকার সেখানেই থাকবে..", সাংবাদিক বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আখরুজ্জামানের
উপ নির্বাচনে বিকল্প নাম ও প্রতীক পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। দলের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়-এ সিলমোহর কমিশনের।ঋতব্রত-তৃণমূলের দলের নতুন নাম এখন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রতদের দেওয়া তিন বিকল্প প্রতীকের মধ্যে খাম প্রতীকে অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস নামক রাজনৈতিক দলের বিসর্জন হয়ে গেছে। নির্বাচনে ফলাফলের মধ্যে দিয়ে বিসর্জন, পারিপার্শ্বিক দলের টুকরো হওয়ার মধ্য দিয়ে বিসর্জন হয়েছে, নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে উপ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিসর্জনের সমাপনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।'
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,'আমি একটা কথা বলি নির্বাচনের দিন, গণনার দিন রাতে হলদিয়াতে মিডনাইটে বলেছিলাম,আর যেই থাকুক এরা থাকবে না। তার কারণটা হচ্ছে, অতি দর্পে হতা লঙ্কা, অতি মানে চ কৌরবা। দম্ভ যার হবে, সেই দম্ভের চূর্ণ ভগবান করবে। সর্বশক্তিমান আছেন।'বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন,কংগ্রেসের কাছে প্রিয় ও প্রশংসনীয় আর দেশের কাছে নিন্দিত রাহুল গান্ধীজি, আপনি এটাও পড়তে পারেন না যে, NCP-এর ফুল ফর্ম ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। এটা কংগ্রেস ভেঙে তৈরি। তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কংগ্রেস আছে। NCP শরদ পাওয়ারজি ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়েছিলেন, বিদেশি নেতৃত্বের ইস্যুতে। কিন্তু বিদেশির উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীজি নিজের পার্টির উৎসই জানেন না। আর উনি মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের বড় নেতা হয়ে গেছেন।'
তবে, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন,প্রথমে শিবসেনা, তারপর NCP, আর এখন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিবার একই ধাঁচে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে এক একটি রাজনৈতিক দলকে ভেঙে দেয়। তারপর সেই দলের নির্বাচনী প্রতীকও কেড়ে নেওয়া হয়। যদি গোটা একটি রাজনৈতিক দলই 'চুরি' হয়ে যেতে পারে, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয়র ভোট 'চুরি' হওয়া আর অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়। ভোট চুরি। সরকার চুরি। এখন দল চুরি, এগুলোই এখন হয়ে উঠেছে আমাদের গণতান্ত্রিক পতনের প্রতীক।
