কলকাতা: বিজেপি সরকার গঠনের পরে, প্রথমবার ABP Ananda-র স্টুডিওতে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এই প্রথম বাংলায় ক্ষমতায় এল বিজেপি। আর প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২৫ শে বৈশাখ, শপথগ্রহণের আগেরদিনই সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ঘোষণা করেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই, এই প্রশ্নটাই গোটা পশ্চিমবঙ্গবাসীর ছিল, কে হবেন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী? সেই আলোচনায় যেমন ছিল শুভেন্দু অধিকারীর নাম, তেমনই বারে বারে উঠে এসেছে শমীক ভট্টাচার্যের নাম ও। শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা হওয়ার পরে, কী মনে হয়েছিল শমীক ভট্টাচার্যের?

Continues below advertisement

 

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা, দৌড়েই ছিলেন না শমীক ভট্টাচার্য?

Continues below advertisement

সুমন দে: শুভেন্দু ভট্টাচার্যের নাম যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হল, একটুও কি বুক চিনচিন করে ওঠেনি? মনে হয়নি ওই চেয়ারটায় আমিও বসতে পারতাম?

শমীক ভট্টাচার্য: কখনও এটা আমার মনে হয়নি। শুভেন্দু অধিকারীকে তার আগে, 'উনি মুখ্যমন্ত্রী হোন' এই কামনা করে আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখে দল নির্বাচনে লড়াই করেছে। সেই লড়াইটা একটা সংসদীয় রাজনীতির লড়াই। উনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন। ২ বার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছেন। প্রথমবার জয়ের পরে, তৃণমূল কংগ্রেস ৫ বছর ধরে প্রচার করেছিল, 'এই জয় লোডশেডিং-এর জয়'। তার পরেরবার, তাঁর দুর্গে গিয়ে দাঁড়িয়েই সে তাঁকে হারিয়েছে। সে মুখ্যমন্ত্রী হবে না তো কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন?

সুমন দে: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই আমায় বলেছেন, শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হতেই চাননি। এটা আপনি কবে জানিয়েছেন? আপনি নাকি দৌড়েই ছিলেন না?

শমীক ভট্টাচার্য: এ তো আমি আপনাকেও বলেছি। আমার চেহারা দেখে কি মনে হয়, যে আমি দৌড়তে পারব?

আরও পড়ুন:BJP Government: কার দখলে ক্রীড়া দফতর? ঘোষণা হয়ে গেল এই দফতরের মন্ত্রীত্ব, দায়িত্ব পেলেন কে?

 

'৪ ঘণ্টার বিজেপি', কড়া বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

সুমন দে: যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুদ্ধবাবুর বাড়ি অবরোধ করেছিলেন, শ্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা বলেছিলাম, এটা সভ্য সমাজের রাজনীতি হতে পারে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের বিরোধীদের বাড়ি ঘেরাও করতে বলেছিলেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছি। কিন্তু আজ যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে, তাঁর স্ত্রী সন্তানেরা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন.. এটাও তো বন্ধ হওয়া দরকার।

শমীক ভট্টাচার্য: আমাদের জয়ের পরে, আমিই প্রথম বলেছিলাম, কোথাও কোনও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা চলবে না। বলেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে যেন কোনও কদর্য আক্রমণ না হয়। বাবার সামনে মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, মহিলাকে বিবস্ত্র করে দেওয়া হয়েছে.. এই ক্ষোভ মানুষের মধ্যে রয়েছে। আমাদের কর্মীরা, যাঁরা বিজেপি করেন, তাঁরা যদি এই নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে এরা বাঁচত না। ছারপোকার মত টিপে মেরে ফেলত মুহূর্তে। এটা বিজেপি করছে না। ৪ ঘণ্টার বিজেপি, যারা এটা করছে। বিজেপি নেতাদের, বিধায়কদের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করা। শুধু বিচ্ছিন্ন করা নয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ব্যবস্থা মানে, আইনি ব্যবস্থা। এই বিষয়টা মুখ্যমন্ত্রী দেখছেন। তিনি হেল্পলাইন চালু করে দেবেন। গোটা পার্টি এটার ওপর নজর রাখছে। যিনি বিধায়ক হতে পেরেছেন, যিনি পারেননি এমনকি পঞ্চায়েত স্তরেও যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ও দায়িত্ব নিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি খুলে, নরেন্দ্র মোদির ছবি লাগিয়ে দেওয়াটা পদ্ধতি নয়। এটা চলবে না। পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি থেকে যাঁরা জয়ী হয়েছেন, তাঁরা যান। মানুষকে পরিষেবা দিন। এটার ব্যবস্থা নিতে হবে। তুমি বুথ দখল করে জিতেছো, বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছো, জিতে কাউন্সিলর হয়েছো, আর আজকে তুমি নরেন্দ্র মোদির ছবি নিয়ে রাস্তায় নামবে? বিজেপিতে বেড়াতে এসে জিততে পারেনি, ফিরে গিয়েছে। আর বিজেপি জয়ের পরে, তৃণমূলের টিআরপি বাড়ানোর জন্য তারাই সবচেয়ে বেশি বিজেপি কর্মীদের পেটাচ্ছে! সে বিজেপিতে ঢুকবে? বিজেপি আছে বলেই সুষ্ঠভাবে, সুস্থ শরীরে রয়েছে। যদি কংগ্রেস বা আরেকটা তৃণমূল থাকত, বাঁচত না। তাঁদেরও আমি বার্তা দিয়ে দিচ্ছি... ঔদ্ধত্যটা কমান। সব ভাষায় কথা বলতে একটা রাজনৈতিক দল জানে। আমরা সেই পথে হাঁটিনি। আমাদের হাঁটতে বাধ্য করবেন না।

আরও পড়ুন: Government Projects: বন্ধ হচ্ছে না কোনও সামাজিক প্রকল্প, কিন্তু স্বচ্ছতার স্বার্থেই করা হবে ঝাড়াই-বাছাই! বাদ যাবে কাদের নাম?