শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার : পুজোর আগে বা পরেই সরাসরি বিজেপিতে যাচ্ছেন ১৭ জন NCPI সাংসদ। ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদকে বাদ দিয়ে ১৭ জন যাচ্ছেন বিজেপিতে । এমন দাবি করলেন NCPI সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, ''দলত্যাগবিরোধী আইন থেকে বাঁচানোর জন্য বিজেপি আমাদের NCPI-তে নিয়ে গেছে''। শুধু তাই নয়, বাসুনিয়ার হঠাৎ দাবি, আবু তাহের, খলিলুরদের বিভিন্ন দফতর দেওয়া হবে, তাঁরাও NDA-কে সমর্থন করবেন। আর এই দাবি করতেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অলিন্দে। BJP অবশ্য এই দাবি মানছে না মোটেই। 'আমরা এমন করি না, যা বলেছেন তার দায় ওঁর' বলছেন দেবজিৎ সরকার।
এই বিষয়ে কী বলছেন, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, '২০২১ সালের ফল বেরনোর পর ২৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন, ২০০ বিজেপির মহিলা কর্মী গণধর্ষিতা, জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা, থুতু ফেলে চাটানো, মাথা কামিয়ে দেওয়া, জরিমানা নিয়ে বাড়ি ফেরানো, অটো টোটো স্ট্যান্ড থেকে ছেলেদের বার করে দেওয়া, এগুলো বিজেপি ভুলে যায়নি। সুতরাং বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সমস্ত পাপ মুছে যাবে বলে করার কারণ নেই। ' শমীক বাসুনিয়ার দাবি শুনে বলেন, 'উনি এনসিপি করেন ... ও এনসিপি অন্য রাজ্যের দল' । আর বাসুনিয়ার বিজেপিতে যোগদানের দাবি শুনে শমীকের স্পষ্ট কথা, 'ওটা মঙ্গলগ্রহের বিজেপি ইউনিট হতে পারে।'
রবিবার শমীক বলেছিলেন, 'দেখুন এগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের পারিবারিক বিষয়। যদিও তৃণমূল এখন নির্মূল। এটা হওয়ার ছিল, এটাই হয়। কে এনসিপি-তে যাবেন, কে ঋতে যাবেন, কে মৃতে যাবেন - এটা তাদের ব্যাপার। এনিয়ে মানুষের কোনও আগ্রহ নেই। স্বাভাবিকভাবে আমারও নেই।'
গত ১০ অগাস্ট রাতেও পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে নিজের বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন জগদীশ বসুনিয়া! সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিধায়ক-স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বসুনিয়াও, যিনি আবার ঋতব্রত-তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সিতাইয়ের বাড়িতে গেলেন জগদীশ বসুনিয়া। দুবারই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন NCPI সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, 'এই জগদীশ বসুনিয়া, এত দুর্নীতি করেছে, এই ১৫ বছরে, একবার বামফ্রন্ট, একবার তৃণমূল, একবার NCPI, যার কোনও দলগত ভাবে যার কোনও ঠিক ঠিকানা নেই। সে হল এক নম্বরের ক্ষমতালোভী।' এই আবহে এখন তিনি দাবি করছেন, পুজোর আগে তাঁরা বিজেপিতে যাচ্ছেন।
