সমীরণ পাল, ন্যাজাট : শাহজাহানের সাক্ষীর গাড়িতে ট্রাকের ধাক্কা কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? ন্যাজাটকাণ্ডে অবশেষে পুলিশের জালে নজরুল মোল্লা। তার ১০দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অবশেষে ন্যাজাটকাণ্ডে FIR-এ নাম থাকা নজরুল মোল্লাকে মিনাঁখা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ভোলানাথ ঘোষের FIR-এ ২ নম্বরে নাম ছিল এই নজরুল মোল্লার। পুলিশ সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল যে ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে যে ট্রাকটি ধাক্কা মেরেছিল, সেই ট্রাক এই নজরুল মোল্লাকেই বিক্রি করা হয়েছিল। সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে চলা সিবিআই- এর মামলার সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষ। তাঁর গাড়িতেই ট্রাকের ধাক্কা লাগে বাসন্তী হাইওয়ের উপর। এই গোটা ঘটনায় নজরুল মোল্লার যুক্ত থাকার একাধিক প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে বলে খবর সূত্রের। অন্যদিকে, এর আগে শোনা গিয়েছে যে, ঘটনার দিন ভোলানাথ ঘোষের গাড়িকে ফলো করছিল একটি ইকো গাড়ি। ওই গাড়িতেই কি ছিল নজরুল মোল্লা? জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। 

Continues below advertisement

জেলবন্দি সন্দেশখালির একদা 'ত্রাস' শেখ শাহজাহান। তার বিরুদ্ধে চলছে সিবিআই- এর মামলা। সেই মামলা-সহ আরও একাধিক মামলার সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয় ভোলানাথ ঘোষের ছোট ছেলে সত্যজিৎ এবং গাড়ির চালকের। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভোলানাথ ঘোষ। দুর্ঘটনার পর, ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরে, ন্যাজাট থানার অন্তর্গত রাজবাড়ি আউট পোস্টে ৮ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে চলা মামলার অন্যতম সাক্ষী। 

এর আগে ন্যাজাটকাণ্ডে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তাদের কারও নামই ছিল না ভোলানাথ ঘোষের করা এফআইআর- এ। উত্তম সর্দার এবং রুহুল কুদ্দুস তরফদার নামের দু'জনকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে উত্তম সর্দার সন্দেশখালি সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা। এর আগেও গ্রেফতার হয়েছে উত্তম সর্দার। শ্লীলতাহানি থেকে জমির জবরদখল, সব অভিযোগই সেই সময় উঠেছিল এই গুণধরের নামে। আরেক ধৃত রুহুল কুদ্দুস তরফদার সন্দেশখালি সরবেড়িয়ার বাসিন্দা। ভাড়া বাড়িতে থাকত সে। মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের কাজ করত। ফুটবলও খেলত। এই রুহুলেও ন্যাজাটকাণ্ডে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ঘটনার দিন সরবেড়িয়া থেকে বাইকে সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি ফলো করছিল রুহুল। পুলিশ সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই সংক্রান্ত ফুটেজও তাদের হাতে রয়েছে। এই রুহুল কুদ্দুস তরফদারের বাইকেই অভিযুক্ত ট্রাক চালক পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও ভোলানাথ ঘোষ যে FIR দায়ের করেছিলেন, সেখানে এই ব্যক্তির নাম নেই। অভিযোগপত্রেও নেই তার উল্লেখ। খোদ অভিযোগকারী তাকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন। 

Continues below advertisement