কলকাতা : খুলছে আর জি কর ফাইলস। রাজ্য সরকারকে তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত শান্তনু সেন। তিনি বললেন, "তদানীন্তন উত্তরবঙ্গ লবির কিংপিন চিকিৎসক এস পি দাসের অঙ্গুলীহেলনে দাসের দাসত্বে আবদ্ধ ছিল বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা। আমি শুধু সরব হয়েছিলাম নয়, আর জি করে রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসাবে দ্বিতীয়বার নিযুক্ত হয়ে কাজ করতে গিয়ে যখন আমি সন্দীপ ঘোষ এবং আমার আগের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায় এবং সেই সময়কার স্থানীয় বিধায়ক, যিনি আমাদের এখানকার প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন- তাঁদের যে দুর্নীতির নেক্সাস, যে পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি, আমি তার হুইসেল-ব্লোয়ার ছিলাম। আমি ভেবেছিলাম হয়তো শুধরে নেওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে। কিন্তু, দেখলাম বিচার তো দূরের কথা, উল্টে আমাকেই সেখানে রোগীকল্যাণ সমিতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।" আর জি করের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "পরবর্তী ক্ষেত্রে, আজ হৃদয়বিদারক, সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া অভয়ার মর্মান্তিক ঘটনা যখন ঘটেছিল, সেই সময়ও আমি কিছু সত্য কথা বলেছিলাম বলে আমাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। আজ যখন দেখছি, বাংলার নব-নির্বাচিত সরকার এবং তার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর জি করের ফাইল আবার খুলছেন, তখন নিশ্চিত করে আমি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একজন রাজ্য সম্পাদক হিসাবে তাঁকে শুধু সাধুবাদ জানাইনি, তাঁকে এই কথাটাও প্রকাশ্যে জানাতে চাই যে এই আর জি করের দুর্নীতির তদন্তে এবং অভয়ার বিচার যেটা সারা পৃথিবীর মানুষ যার দিকে তাকিয়ে আছে, এরজন্য যে কোনও ধরনের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত এবং সেই সহযোগিতা করার মতো অবস্থাতেও আমি রয়েছি।"

Continues below advertisement

কথা রেখেছে বিজেপির সরকার। ক্ষমতায় এসেই আর জি ফাইল খুলেছে তারা। সাসপেন্ড করা হয়েছে ৩ IPS অফিসার - বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্য়ায় ও অভিষেক গুপ্তকে। ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর জি কর মেডিক্যালে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে CBI-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ।

২০২৪-এর ৯ অগাস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে শিয়ালদা কোর্ট। তবে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, প্রকৃত বিচার তাঁরা পাননি। ধর্ষণ, খুনের রাতে, ওই তরুণী চিকিৎসক যে চারজনের সঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদেরকে কেন তদন্তের আওতায় আনা হয়নি, সেই প্রশ্নও বারবার তুলেছেন তাঁরা। এই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, সেই রাতে খাওয়া থেকে নিহত চিকিৎসকের শেষকৃত্য পর্যন্ত কী কী হয়েছিল ? ঘটনাক্রম কী ছিল ? তা CBI খতিয়ে দেখবে। 

Continues below advertisement