কলকাতা: সোনারপুরে গিয়ে জনরোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এক মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। আর সেখানে যাওয়ার পথে মুহুর্মুহু 'চোর' স্লোগান। ছোড়া হয় ডিমও। তারপর তাঁকে সেই কর্মীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: কলকাতায় ফিরেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন অভিষেক, বেরোলেন তারপর, সঙ্গে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি টেনে এনেছেন তৃণমূলের অত্যাচারের প্রসঙ্গ। তিনি বলছেন, "যা অত্যাচার তৃণমূল কংগ্রেস করেছে আমাদের কর্মীদের সঙ্গে, মহিলাদের সঙ্গে; আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজ তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষত আছে। মেয়ের সামনে ছেলে ভাত খাচ্ছে, তাকে গুলি করে খুন, মহিলাদের মাথা নেড়া করে তাদের দিয়ে থুতু চাটানো, নৈহাটিতে একজন পুরুষকে বিজেপি করার অপরাধে উলঙ্গ করে তাকে থুতু ফেলে চাটানো, বিজেপির হয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অপরাধে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে বিধায়ক পদপ্রার্থীকে বাড়ি ঢোকানো, অত্যাচার কিছু বাদ রেখেছে?"

Continues below advertisement

এরপর শমীক ভট্টাচার্যের মুখে শোনা যায় পূর্বতন সরকারের মন্ত্রীদের সম্পর্ক কথাও। তিনি বলেন, "তারপরও তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রীগুলো অক্ষত আছে, এটাই হচ্ছে বিজেপি। বিজেপির কারণে আছে।"

আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভর্তি নিতে নারাজ বেল ভিউ বা অ্যাপোলো, শহরের দুই নামী বেসরকারি হাসপাতালই

এ ছাড়াও তিনি বলেন, যদি তৃণমূল জিততো তাহলে কী হতে পারত। আর সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে, যদি তৃণমূল থাকত, আমি হয়তো এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না। ৫০০ কর্মী খুন হয়ে যেত। আর কংগ্রেস বা সিপিএম হত, তাহলে আজ যিনি বলেছেন, বিবৃতি দেওয়ার অবস্থায় থাকতেন না। অনেক আগেই লিঞ্চিংয়ের শিকার হয়ে যেতেন।"

এরপর শমীক ভট্টাচার্যের মুখে শোনা যায় ডায়মন্ড মডেলের কথাও। তিনি বলেন, "ডায়মন্ড মডেল? প্রচার করতে এলেন না কেন? ফলতায় যে নির্বাচন হল, প্রচর নেই কেন? কোথায় ডিজে? কোথায় রবীন্দ্র সঙ্গীত? এসব আর রাজনীতিতে চলবে না।"

উল্লেখ্য, সোনারপুর থেকে ফিরে প্রথমে অ্যাপোলো হাসপাতালে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে দেখতে অ্যাপোলো হাসপাতালে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিষেকের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কোনও গুরুতর চোট নেই, জানানও হয়েছিল অ্যাপোলো সূত্রে। যদিও এর কিছুক্ষণ পর অভিষেককে নিয়ে অ্যাপোলো থেকে বেরিয়ে যান মমতা।