কলকাতা: ৩ তৃণমূল বিধায়কের সই পরীক্ষা করতে চায় CID। বিধায়কদের সই জাল, ব্যাঙ্কশাল কোর্টে CID। 'অরূপ রায়, বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস', তৃণমূলের ৩ বিধায়কের হাতের লেখা খতিয়ে দেখতে চায় CID।
আরও পড়ুন, যে 'জল্পনা' উঠেছে, সেটা কি মিথ্যে ? সাংবাদিকদের মুখোমুখি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
বিধানসভায় এবার তৃণমূল বিধায়কদের সই বিতর্ক। যা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হল হেয়ার স্ট্রিট থানায়। মূলত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন, এই মর্মে একটি প্রস্তাব নিয়েছিল তৃণমূল। দলের বিধায়কদের সই-সহ সেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। সূত্রের খবর, সেখানে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভার অফিসারদের সন্দেহ হয়। এনিয়ে বিধানসভার সচিবের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানানো হয়। তদন্তে CID-র হ্য়ান্ডরাইটিং এক্সপার্টদের সাহায্য় নেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবারই চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং ক্য়ানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা।
ক্ষমতা হারালেও তৃণমূলের জালিয়াতি থামছে না। এবার পর্দাফাঁস হয়েছে তাদের সই জালিয়াতির। তদন্তে নেমেছে সিআইডি। এই আবহে দেড় দশকের তৃণমূল জমানায় আমলাদের সই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।আর অন্য় দল নয়, সেই প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলেরই ঘরের লোক। সোমবার এবিপি আনন্দে ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দেব। যিনি পেশায় আইনজীবী এবং মিজোরামের অ্য়াডভোকেট জেনারেল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, আমি তো মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারীকে আপনার চ্য়ানেলের মাধ্যমে আমি অনুরোধ করব যে বিগত দিনের ফাইলগুলো ভাল করে দেখা হোক। সেই ফাইলগুলোকে ভালভাবে তদন্ত করুন। প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিদের সই, হোম সেক্রেটারির সই, চিফ সেক্রেটারির সই এগুলো দেখুন, কোথায় কোনটা অরিজিনাল কোনটা জাল। এই তদন্ত কেন হবে না? আগে তার ফাইলগুলো বিগত পাঁচ বছরের ফাইলগুলো যে সত্য়ি সত্য়ি সই গুলো সবার সই ঠিকমতো হয়েছে কি না ফাইলে এটা বড় প্রশ্ন।
আমলাদের সই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও। বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গতকাল শুনছিলাম, আপনার চ্যানেলে, আজকে সকালে শুনেছি আর কী। গতকালের অনুষ্ঠান। সেখানে আরেকজন বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, এমনকি আমলাদের সইয়েও প্রচুর জাল রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে এই কথা বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠছে। আর আমাদের মনে হয়েছে, এটা তো তৃণমূলের ওখানে বলে, অভ্যন্তরে লাভ নেই। যাঁরা সই করাচ্ছিলেন, তাঁরা সবাই ক্রাউন প্রিন্সের অফিসের হর্তা-কর্তা-বিধাতা অনেকে। আমি এটা নিশ্চিতও নই। মুখগুলো চিনি। সবার চাকরি আছে কিনা, আমি তাও জানি না।
