কলকাতা : ভয়াবহ হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই। এখনও নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার মানুষ। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। কাদামাটি সরিয়ে দ্রুত রাস্তা সাফ করার কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রমাদ গুণছে সিকিমও। গত কয়েক বছরের একাধিক বার পাহাড়ে ধস ও বন্যায় ভেসেছে পাহাড়ি রাজ্য। আর এবার গবেষণা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সিকিমের ঝুঁকির জায়গাটা। যে কোনও সময় হড়পা বানের গ্রাসে চলে যেতে পারে সিকিমও। ভয়ঙ্কর এই সতর্কবাণী শুনে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল সিকিম সরকার।
নেপালের ভয়ঙ্কর পরিণতির পর ত্রস্ত সিকিমও। সেখানেও হিমবাহ হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যার (GLOF) ঝুঁকি রয়েছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাই ১৬টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হিমবাহ হ্রদের উপর লাগাতার নজরদারি শুরু করল রাজ্য সরকার। জলস্তরের পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করতে সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনও হ্রদের জলস্তরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে যাতে দ্রুত সতর্ক হওয়া যায়, তাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছে তারা।
সিকিমে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক হিমবাহ হ্রদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ১৬টি হ্রদের মধ্যে ১৩টি উত্তর সিকিমে, ৩টি পশ্চিম সিকিমে। অর্থাৎ হিমবাহ হ্রদে বিপর্যয়ের ঝুঁকি উত্তর সিকিমেই সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিকিমে ইতিমধ্যেই দুটি Automatic Weather Station স্থাপন করা হয়েছে । বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ও হিমবাহ হ্রদ পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
২০২৩ সালে সিকিমে দক্ষিণ লোনাক হ্রদ থেকে হঠাৎ জল বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ফলে নতুন করে হিমবাহ হ্রদগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিকিম প্রশাসনের আপাতত, বিপর্যয় ঘটার আগেই সতর্ক হওয়ার জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে।
সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিপর্যয়ে হিমবাহ ধসের ঘটনায় ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে নেপালে। সেই ঘটনার পর অন্যান্য পাহাড়ি রাজ্যেও এই ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা চলছে। হিমবাহ হ্রদগুলির উপর নজরদারি রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
