নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, ঝকঝকে পাহাড় দেখার আদর্শ মরসুম। এই সময়টা বহু পর্যটকই পাহাড়মুখী হন। আর বাঙালির কাছে পাহাড়ের প্রিয় ডেস্টিনেশন মানেই হাতের নাগালে দার্জিলিং সিকিম। কিন্তু সেই পছন্দের সিকিমেই প্রাণ গেল এ রাজ্যের পর্যটকের। শুক্রবার উত্তর সিকিমের পার্বত্য এলাকায় ছুটি কাটাতে গিয়ে মারা গেলেন কলকাতার এক মহিলা।
পিটিআই সূত্রের খবর, ওই মহিলা তার পরিবারের সঙ্গে সিকিমে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। লাচুং পৌঁছোনোর পর থেকেই তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন । কয়েকবার বমিও করেছিলেন। কিন্তু এতটা অসুস্থতা সত্ত্বেও, তিনি বৃহস্পতিবার ১৫,৩০০ ফুট উঁচুতে জিরো পয়েন্টে যান। তাতেই ভয়ঙ্কর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের
রাত ২ টো নাগাদ, বেশি উচ্চতায় গিয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দ্রুত লাচুং আর্মি ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পুলিশ সূত্রে। সিকিমের দর্শনীয় স্থান, লাচুং ৯,৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। অনেকেরই হাই অল্টিচ্যুড সিকনেস থাকে। তার দরুণই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর জন্যই তাঁর মৃত্যুর হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ। তাঁরা আরও জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
altitude sickness কী ?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, 'অল্টিচ্যুড সিকনেস দেখা দিলে, সেগুলি না কমা অবধি আর উচ্চতায় উঠবেন না। দরকারে সেখানে বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে ট্রিপের সময় বাড়ান। অতি উচ্চতায় বেশি রকম অসুস্থ হলে কিন্তু চিকিৎসা পেতে সমস্যা হতে পারে। খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। পর্বত আরোহনে রোমাঞ্চ থাকুক, বিপদ নয় !'
অ্যাকিউড মাউন্টেন সিকনেস কিন্তু বেশি উচ্চতায় অনেকেরই হয়। অনেকেরই শরীর অতিরিক্ত উচ্চতার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না । তাদেরই altitude sickness হয়ে থাকে। যত উচ্চতা বাড়ে, একে একে সমস্যা প্রকট হয়। অতি উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসে। ৮ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় এই সমস্যা প্রকট হয়। অনেককেই চিকিৎসকরা High Altitude Simulation Test করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এই টেস্ট করালে বোঝা যায়, কোনও ব্যক্তির বেশি উচ্চতার অক্সিজিনের সাপোর্ট লাগবে কি না।