হুগলি: অভিভাবকদের না জানিয়েই সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় স্কুল পড়ুয়ারা ! 'অভিভাবকদের না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিয়ে যাওয়া হয় স্কুল পড়ুয়াদের', সিঙ্গুরের স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব অভিভাবকরা। 'শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ এসেছিল। অভিভাবকদের জানানোর সুযোগ হয়নি', প্রশাসনের নির্দেশ মেনে এটা করতে হয়েছে, স্বীকার প্রধান শিক্ষকের।
আরও পড়ুন, 'বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম...সবাই ভোটে দাঁড়াতে বলেছে', দাবি RG করে নিহত চিকিৎসকের মায়ের
ঠিক ১০ দিন আগে, সিঙ্গুরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।টাটাদের কারখানা যে জমিতে হওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেখানেই সভা করেন নরেন্দ্র মোদি। ভোটের মুখে সেই জমিতে নতুন করে কোনও শিল্প বা কারখানার ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী- এমন আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব থেকে সিঙগুরের বাসিন্দা! কিন্তু সিঙ্গুরবাসীকে শুনতে হয় অন্য কথা!মুখ্য়মন্ত্রীর সভা থেকেও বড় কোনও ঘোষণা হল কী ? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, "সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে বলছো, আমি বাংলার জন্য এটা করব। টেলিপ্রম্পটার দেখে। লিখে নিয়ে আসে। হিন্দিতে বাংলা করে লিখে নিয়ে আসে। বাংলাকে নাকি উনি গুছিয়ে দেবেন। ৪ বছর ধরে বাংলায়, বাংলার আবাসের টাকা দেয় না। রাস্তার টাকা দেয় না। ১০০ দিনের কাজের টাকা দেয় না। সর্বশিক্ষার টাকা দেয় না। জলের টাকা দেয় না। মানুষের টাকা দেয় না। "
বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেছিলেন, 'আজ সিঙ্গুরের মানুষ দুঃখ পেয়েছে। কারণ আপনি নতুন কোনও কিছু করেননি। আর আমি জিজ্ঞাসা করছি মমতা দিদি, এর জন্য জবাবদিহি কে করবে?' না নরেন্দ্র মোদি!না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!সিঙ্গুরের ন্যানো কারখানার জমি নিয়ে স্পিকটি নট, দু'জনেই!জারি রয়েছে কেবল রাজনীতির লড়াই! বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, টাটা গোষ্ঠীর তৈরি করা কারখানাকে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে টাটাকে তাড়ানো হয়েছিল। উনি কখনও গিয়ে সরষের বীজ ছড়িয়েছেন, কখনও JCB মেশিন (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে জলাশয় তৈরি করে মাছ চাষের কথা বলেছেন। কিন্তু কোনওটাই সফল হয়নি। সিঙ্গুর কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে শ্মশানে পরিণত হয়েছে। তাই ১৫ বছরে কোনও বড় বিনিয়োগ, বড় ইন্ডাস্ট্রি পশ্চিমবঙ্গে আসেনি। এক এক করে পেট্রো কেমিক্যাল-সহ আমাদের নানা বড় বড় গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে। মোট শিল্প চলে যাওয়ার সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৮টা, এই ১৫ বছরে। তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সিঙ্গুরে কখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস শিল্প বা টাটার বিরুদ্ধে বলেনি। বলেছে শিল্পের জমিতে শিল্প হবে। তিন ফসলি জমি সরকার জোর করে অধিগ্রহণ করতে আমরা দেব না। কারণ এর সঙ্গে বহু কৃষক, কৃষিজীবী পরিবার খেতমজুরের পরিবার জড়িত। এটা কৃষিনীতি, শিল্পনীতি ও জমিনীতির বিষয়। টাটা তো এখনও পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণে কাজ করছে, কোনও সমস্যা নেই তো। শুভেন্দু অধিকারীরা ভুল বুঝিয়ে এসব বলছে। শুভেন্দু অধিকারী তো সেইসময় তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। এত যদি আপত্তি থাকে, তখন বলেননি কেন। সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানার স্বপ্ন দেখেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নরেন্দ্র মোদি-মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় সিঙ্গুর ঘুরে গেলেন!কিন্তু কারখানা কি হবে কোনওদিন?স্পষ্ট হল না।
