রঞ্জিত হালদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : প্রেমিকের সঙ্গে ষড় করে স্বামীকে মেরে ফেলার তুখোড় ছক। অনেকটা যেন মেরঠের ঘটনার ছায়া। কিন্তু স্ত্রীর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে স্বামী ঘটালেন এমন কাণ্ড, যা শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দেবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার মাহিনগরের ঘটনা। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের ছক কষেছিল স্ত্রী। তবে সেই ষড়যন্ত্রের জালেই শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল স্ত্রীর। এখানেই শেষ নয়, পরপর ঘটনাক্রম সিনেমার স্ক্রিপ্টকেও হার মানাবে। 

পরকীয়া ... সংসারে ভাঙন 

ক্যানিংয়ের বাসিন্দা বাপি গায়েন বছর আটেক আগে প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন প্রতিবেশী প্রিয়াঙ্কা গায়েনকে। বিয়ের পর কাজের সূত্রে বাপি পার্ক সার্কাসের একটি কারখানায় চাকরি পান। তারপর স্ত্রীকে নিয়ে সোনারপুরের মাহিনগরে ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেই ভাড়াবাড়ির পাশের ঘরেই থাকতেন সুপ্রকাশ দাস ও তাঁর স্ত্রী। সূত্রের খবর, ধীরে ধীরে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুপ্রকাশের। শুরু হয়  প্রেম। সবটাই গোপনে। কিন্তু পরে বিষয়টি জানতে পেরে যান বাপি। শুরু হয় অশান্তি।

প্রতিশোধ নিতে  স্ত্রীকে খুন করার সিদ্ধান্ত !

বাপি ও প্রিয়াঙ্কার সংসারে অশান্তি বাড়তে থাকে।  এরই মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র চলে যায় সুপ্রকাশ। কিন্তু তলায় তলায় সুপ্রকাশের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কে ছেদ পড়েনি ।  দু'জনের মাঝে মধ্যেই ধানমাঠ এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে একসঙ্গে সময় কাটাতেন। এই খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাপি। এরই মধ্যে পথের কাঁটা সরানোর পরিকল্পনা করে ফেলেন প্রিয়াঙ্কা।  স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করে ফেলের সুপ্রকাশকে সঙ্গে নিয়ে ।  ফোনে সেই কথা বলার সময় শুনে ফেলেন বাপি। তারপরেই নিজের জীবন বাঁচাতে এবং প্রতিশোধ নিতে  স্ত্রীকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরকীয়া থেকে মর্মান্তিক পরিণতি !

অভিযোগ, রাতে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়তেই শ্বাসরোধ করে খুন করেন বাপি। স্ত্রীকে খুনের পর নিজের অপরাধ স্বীকার করে সোজা সোনারপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত বাপিকে জেরা করে সম্পূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পাড়ার লোকজন স্তম্ভিত । প্রতিবেশীদের একাংশ জানিয়েছে, বাপি আর প্রিয়াঙ্কার মধ্যে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হত। তবে এমন ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরকীয়া থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।