দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফের উত্তপ্ত ভাঙড়, এবার আরাবুলের ছেলের গাড়িতে 'হামলা'। আরাবুল ইসলাম বনাম সওকত মোল্লার 'দ্বন্দ্বে' ধুন্ধুমার। আরাবুল ইসলামের ছেলে হাকিমুলের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সওকত অনুগামীদের বিরুদ্ধে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, দিলীপের পছন্দ 'খড়গপুর', হিরণ বললেন, 'যদি আমাকে এখান থেকে লড়তে বলে..' ?

Continues below advertisement

হাকিমুলের গাড়ি ঘিরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ ও হাতাহাতির চলে বলে অভিযোগ। গতকাল আরাবুল অনুগামী তৃণমূল নেতা অদূত মোল্লার বাড়িতে হামলা, খুনের অভিযোগ উঠে আসে। অদূত মোল্লার বাড়িতে যান আরাবুলের ছেলে ও তৃণমূল নেতা প্রদীপ মণ্ডল। অদূতের বাড়ি থেকে বেরতোই ঘটনার মোড় ! প্রদীপ মণ্ডলকে মারধরের অভিযোগ। পুলিশি হস্তক্ষেপে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে বেরিয়ে যান হাকিমুল ইসলাম।

শুক্রবারই, বারুইপুরের সভায় ২৬-এর ভোটে ২১-এর থেকে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঙড় জয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, এবার ভাঙড়ও তৃণমূল কংগ্রেসকে জিততে হবে। ৩১-এ ৩১ দক্ষিণ ২৪ পরগনা করতে হবে। তার জন্য় আমাদের যত পরিশ্রম করার করতে হবে। ২০২১-এ তৃণমূল জিতেছিল ২১৪, এবার একটা হলেও আসন বাড়বে। আপনাদের কথা দিতে হবে, সেই একটা আসন যেন এই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে হয়।  একটা বুথেও বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ করা যাবে না।

কিন্তু কে শোনে কার কথা!রবিবার সকালে আরাবুল ইসলামের ছেলে হাকিমুল মোল্লা ও তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লার গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায় ভাঙড়ে। মারধর, গাড়ি ভাঙচুর নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে।  ISF-এর দাবি, ভাঙড়ের মানুষ তৃণমূলের এই খাওয়া-খায়ি দেখেই ISF-এর উপর আস্থা রেখেছ। আগামী দিনেও মানুষের আস্থা অটুট থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধানসভা আসন ৩১ টি ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৩০টিই দখল করে তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলকে হারিয়ে শুধুমাত্র ভাঙড় বিধানসভার যুদ্ধে জয়লাভ করে ISF.

ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ২৩৭ ভোট। আর তৃণমূলের করিম রেজাউল পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ৮৬ ভোট। ২৬ হাজার ১৫১ ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী।অন্যদিকে, ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।পরিসংখ্যান বলছে, গত বিধানসভা ভোটের ফলের নিরিখে বেওতা ১ এবং বামনঘাটা, এই দুই পঞ্চায়েত ছাড়া ১১টি পঞ্চায়েতেই ISF-এর কাছে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, ভাঙ্গড়ে ভেঙে যাওয়া তৃণমূলের সুযোগ নিয়েই ISF ২১-এ খাতা খোলে। অথচ এই ভাঙ্গড় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল। নেতৃত্বের উচিত আগে এদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানোর ব্যবস্থা করা। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন।তার আগে, ভাঙড়ে বারবার মাথা চাড়া দিচ্ছে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল।  সম্প্রতি, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ও পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দলেরই অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। গত অক্টোবরে ভাঙড়ের ঘটকপুকুরে তৃণমূল পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল বিধায়ক ও ভাঙড়ের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক সওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে।সেই ঘটনার কয়েকদিন পর তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে সওকত মোল্লার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। যদিও সব অভিযোগ উড়িয়ে দেন সওকত মোল্লা।শুধু তাই নয়, এক সময় যাঁদের মধ্য়ে তুমুল বিরোধ ছিল, সেই আরাবুল ইসলাম ও কাইজার আহমেদ যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে এলাকা থেকে সওকত মোল্লাকে হঠানোরও ডাক দেন। এইসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে, ফের প্রকাশ‍্যে চলে এল তৃণমূলের সংঘাত।