বালুরঘাট: টানা ঝড়-বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বালুরঘাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা। ভারী বৃষ্টিতে শহর ও শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিদ্যুৎ কুমার রায়, তপনের বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু এবং বালুরঘাটের বিডিও সোহম চৌধুরী। এদিন তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ত্রিপল ও খাবারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির স্থানীয় কর্মীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন দুই বিধায়ক।
আগেই আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছিল যে রবিবার ঝড় ও বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে রাজ্যে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমে দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানানো হয়েছিল যে ৪০ থেকে ৫০ কিমি গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে। তবে কিছু জেলায় উষ্ণ এবং আর্দ্রতাজনিত আবহাওয়া বজায় থাকবে এমনটাও বলা হয়েছিল।। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকে একাধিক জেলায়, ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে খবর আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলাগুলিতে দুযোগের পূর্বাভাস।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছিল দক্ষিণ বিহার এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত। এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে অন্ধপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা।দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া চলবে বুধবার পর্যন্ত। তাপমাত্রা না বাড়লেও ফিল লাইক টেম্পারেচার অনেকটা বেশি থাকবে। একইসঙ্গে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি ভোগাবে।পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ,ঝাড়গ্রাম ,পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম - এই জেলাগুলিতে গরম এবং অস্বস্তি চরমে থাকবে। কলকাতা সহ বাকি জেলাতেও গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া। একইসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে বেশি। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে যেকোনো জায়গায় স্বল্প সময়ের ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে।
যদিও রবিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেভাবে ঝড়-বৃষ্টির কোনও খবর নেই রাজ্য়ে। বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির আর কোনও খবরও নেই। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। গত কয়েকদিনে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির খবর এসেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে।
