দমদম: দমদমের বেদিয়াপাড়ায় পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় চারদিনের মাথায় ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল নাগেরবাজার থানার পুলিশ। নৈহাটি থেকে সুশান্ত দাস ও বরানগর থেকে সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাগানকে গ্রেফতার করা হয়।
গায়ে পেট্রোল ঢেলে জলজ্য়ান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বৃহস্পতিবার ভোররাতে এভাবেই এক ব্য়ক্তিকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। দমদমের বেদিয়াপাড়ায়। ৪৫ বছর বয়সি সেই রঞ্জিত কর্মকার এখনও আর জি কর মেডিক্যালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ঘটনার পরদিনই নাগেরবাজার থানায় তিনজনের নামে FIR দায়ের হয়। রবিবার সেই ঘটনায় FIR-এ নাম থাকা ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল নাগেরবাজার থানার পুলিশ। নৈহাটি থেকে সুশান্ত দাস (২৩) ও বরানগর থেকে সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাগানকে গ্রেফতার করে নাগেরবাজার থানার পুলিশ। আক্রান্ত রঞ্জিত কর্মকারের স্ত্রী রুবি কর্মকার জানিয়েছেন, 'চারদিন প্রায় হয়ে গেল। ধরা তো পড়েনি, একজনই ধরা পড়েছে। আর যে কবে ধরা পড়বে কী করে বলব? আরও যারা আছে তারা যেন ধরা পড়ে। একজন ধরলে হবে না।'
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন রঞ্জিত কর্মকার। তার পরিবারের দাবি, সেই সময় পাশের পাড়ার প্রতিমা নিরঞ্জন করে স্কুটারে করে আসেন সুমন, সুশান্ত ও সাগর। তিন জনই মত্ত ছিলেন। অভিযোগ, রঞ্জিতকে দেখতে পেয়ে স্কুটার থেকে তেল বের করে গাযে ছিটিয়ে দেন একজন। আর একজন আগুন ধরিয়ে দেন। দগ্ধ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অভিযুক্তরা দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মৃন্ময় দাসের অনুগামী।
যদিও ভয়ঙ্কর সেই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরের মুখে শোনা গিয়েছিল ইয়ার্কির তত্ত্ব! দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৃন্ময় দাস জানিয়েছিলেন, 'ভোর সাড়ে চারটের সময় কী হতে পারে, কী হতে পারে? ইয়ং ছেলেরা কালী পূজা করেছে। তারপর এসেছে, এ একে ঠেলা দিয়েছে, ইয়ার্কি মারতে গিয়ে এই ঘটনাটা ঘটেছে।' এবার সেই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেই আহতকে হাসপাতালে গিয়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারই পরিবারের সদস্যরা। আক্রান্তের স্ত্রী বলেছেন, 'কাউন্সিলর আমার বরকে টাকা দিয়ে এসেছিল। সেই সময় আমি থানায় ছিলাম। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে এসেছিল। পরের দিন আমি জানতে পেরেছি। আমরা সেই টাকা ছুড়ে দিয়ে এসেছি। আমাদের টাকার দরকার নেই।' এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। দক্ষিণ দমদমের বিজেপির কো কনভেনর গৌতম মণ্ডল গৌতম সাহা মণ্ডল বলেছেন, 'ওখানকার যিনি কুখ্য়াত কাউন্সিলর মৃন্ময় দাস তিনি টাকা নিয়ে গিয়ে যাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল তাকে গিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে এসেছিল। যাদের নামে FIR করা হয়েছে তার মধ্য়ে একজন বুবলাই দাসের ডান হাত তাঁর নামটা যেন বাদ দেওয়া হয়।' এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মৃন্ময় দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি ফোন কেটে দেন।