কলকাতা: কাটছে না শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা। এবার একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সেলিং বন্ধ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ১৪ অগাস্ট থেকে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু SSC জানাল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে কাউন্সেলিং। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হল। (SSC Councelling Postponed)
আদালতের নির্দেশে আগেই ২৬০০০ চাকরি চলে গিয়েছিল। যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা কাটলনা এখনও পর্যন্ত। SSC-র তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হল, ১৪ অগাস্ট থেকে একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সেলিং আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে কাউন্সেলিং। (SSC Teachers Recruitment)
ইতিমধ্যেই একাধিক বিষয়ের কাউন্সেলিং হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও ১২টি বিষয়ের কাউন্সেলিং বাকি। কথা ছিল ১৪ অগাস্ট থেকে কাউন্সেলিং শুরু হবে। কিন্তু তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল SSC. দু'দিন আগে মধ্যশিক্ষা পর্ষদও পুলিশ ভেরিফিকেশন, নেডিক্যাল ভেরিফিকেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকেই আশঙ্কা দেখা দেয় কাউন্সেলিং ঘিরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্য়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের কাজ সম্পূর্ণ হবে কি না, আশঙ্কা দেখা দেয়।
অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা OBC সংরক্ষণ নিয়ে বিগত সরকারের সিদ্ধান্ত নেয় যে, ১৭ শতাংশ OBC সংরক্ষণ দেওয়া হবে। সেই মতোই কাউন্সেলিং হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল মেধাতালিকা। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, নতুন বিজেপি সরকার সেই সংরক্ষণ কমিয়ে ৭ শতাংশ করেছে। আর সেই নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুরনো নিয়মে যাঁরা নিয়োগপত্র পাওয়ার দৌড়ে এগিয়েছিলেন, তাঁদের কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সময়ের সঙ্গে।
SSC কার্যত মেনে নিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। সেই মতো সুপ্রিম কোর্টে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানাতে চলেছে তারা। তাহলে কি নতুন করে কাউন্সেলিং পর্ব শুরু হবে? আবার কি নতুন প্যানেল তৈরি হবে? সংরক্ষণ বিধির গেরোয় আপাতত আটকে গিয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। আগামী দিনে কী ভাবে নিয়োগ হবে, তা নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে SSC. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল ৩১ অগাস্টের মধ্য়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু তা কোনও ভাবেই আর সম্ভব নয়।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কী হবে? ৩১ অগাস্ট শেষ দিন স্কুলে যাওয়া তাঁদের। তার পর বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। তাই সুপ্রিম কোর্ট কী বলে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তার আগে পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মুখে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। চাকরি হারানোর পর নতুন করে পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাঁরা। পাশ করে কাউন্সেলিং পর্যন্ত এগিয়েছিলেন। তার পরও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটল না।
