অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: হাওড়া (Howrah) ও চন্দননগরে (Chandannagar) প্রোমোটিংয়ের (Promoting) কারবারে জড়িত ধৃত শান্তনু বন্দোপাধ্যায়ের (Shantanu Banerjee) স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা (Priyanka Banerjee)। তৈরি হচ্ছে মার্কেট কমপ্লেক্স, আবাসন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সেখানেও পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ করেছেন, বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা। সূত্রের খবর, ওই সমস্ত প্রোমোটিং কারবার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছে ইডি (ED)। 

ব্যান্ডেলে বাংলো, বলাগড়ে ধাবা-হোম স্টে। জামালপুরে বেনামে বালি খাদান। এভাবেই পেঁয়াজের খোসার মতো একে একে হদিশ মিলেছে, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তির। শান্তনুর আধিপত্য ছড়িয়ে রয়েছে হাওড়াতেও। 

এবার সেখানে হদিশ মিলল নির্মীয়মাণ মার্কেট কমপ্লেক্সের। সূত্রের খবর, যে প্রোমোটিংয়ের ব্যবসায় যুগ্মভাবে জড়িত রয়েছেন শান্তনুর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু হাওড়া নয়, চন্দননগরেও প্রোমোটিং কারবারে জড়িত রয়েছেন তিনি। খবর, শান্তনুর অঙ্গুলিহেলনেই দু-জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন তাঁর স্ত্রী।

হাওড়ার আমতা-জগৎবল্লভপুর এলাকার মাঝামাঝি মুন্সীর হাট বাজার। এখানেই তৈরি হচ্ছে তিনতলা এই মার্কেট কমপ্লেক্স। যার নীচের তলার দোকান ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। মার্কেট তৈরি হয়েছে শঙ্করহাটি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রাখহরি ঘোষের পরিবারিক জমিতে। শঙ্করহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা এবং উপপ্রধান রাখহরি ঘোষ বলেন, 'রাজনৈতিক সূত্রে শান্তনুকে চিনতাম, প্রিয়ঙ্কাকে রেজিস্ট্রি অফিসেও দেখেছি। তবে প্রিয়ঙ্কা যে শান্তনুর স্ত্রী, জানতাম না।'  

আরও পড়ুন, স্বামীর বহু কোটির সম্পত্তি জানতেন? চিনতেন কুন্তলকে ? মুখ খুললেন শান্তনুর স্ত্রী

চন্দননগরে ইতিমধ্যেই শান্তনুর ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্য়াটের হদিশ মিলেছে। সূত্রের দাবি, সেই চন্দননগরেই পার্টনারশিপে, আবাসন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিলেন শান্তনুর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা। সত্য পীরতলায়, এই জমিতে তৈরি হওয়ার কথা 'ঐশানী' অ্যাপার্টমেন্ট নামে বহুতলের। বাকি দুই অংশীদের পাশাপাশি, বিভিন্ন নথিতে ছবি ও সই রয়েছে শান্তনুর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কার। সূত্রের খবর, হাওড়া, চন্দননগরের মার্কেট ও প্রস্তাবিত আবাসনের তথ্য রেজিস্ট্রি অফিসের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে ইডি। 

এদিকে, এবিপি আনন্দ মুখোমুখি হয়েছিল শান্তনুর স্ত্রীর। তাঁর দাবি, স্বামীর যদি এত সম্পত্তি থাকত তিনি জানতেন। প্রিয়ঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তদন্ত চলছে, সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, ধীরে ধীরে সব সত্য আসবে সামনে। যদিও প্রিয়ঙ্কা বলেন, তিনি চেনেন কুন্তল ঘোষকে, তবে পাড়ার ছেলে হিসেবে।