কলকাতা: চাকরিহারা শিক্ষকদের বিকাশ ভবন ঘেরাও অভিযানে ধুনধুমার। রাত বাড়তেই আন্দোলনে তুলতে মার পুলিশের। চলল লাঠি। রক্তাক্ত চাকরিহারা শিক্ষকরা। এমন ছবিও প্রকাশ্যে আসে যেখানে দেখা যায় যে লাঠি দিয়ে পুলিশি অ্যাকশন চলে, মারধরের প্রাবল্যে দু'ভাগে ভেঙে গিয়েছে সে লাঠি। অন্যদিকের চিত্র, রক্তাক্ত শিক্ষকরা। মাথা-পা-হাত রক্তে রাঙা দেহ।                                  

মাসের পর মাস, বছরের পর দিনরাত পড়াশোনা করে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু SSC দুর্নীতি এদের জীবন তছনচ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেন চাকরিহারারা। সকাল থেকেই এনিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় বিকাশ ভবন চত্বরে। বিকাশ ভবনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসা সেই চাকরিহারা শিক্ষকদের লাঠিপেটা করল পুলিশ। কারও মাথা ফাটল। এখানেও, চাকরিহারা শিক্ষকদের পিটিয়ে লাঠি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই এবার রাজ্যজুড়ে আন্দোলন ডাক দেওয়া আন্দোলনকারীদের তরফে।

তাঁদের তরফে বলা হয়, 'অনেক শিক্ষক হাসপাতালে আছে। এঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনের চোখে এমন আঘাত করেছে, জানি না সেই চোখ আদৌ ঠিক হবে কি না। অনেক শিক্ষকের হাত, পা ভেঙে দিয়েছে। জীবনে বাঁচার লড়াই করছেন তাঁরা। পুলিশ চাইছে একদম মেরে ফেলতে। পুলিশ শিক্ষকদের মেরে পর্যন্ত ওদের লাঠি ভেঙে দিয়েছে। আমরা কাল অর্থাৎ শুক্রবার গোটা বঙ্গবাসীকে, সকল সাধারণ নাগরিকদের আবেদন জানাচ্ছি, তাঁরা যেন এই নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের পাশে থেকে কাল রাস্তায় নামেন। কাল যেন সকলে ধিক্কার দিবস পালন করে। কাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আবেদন জানাচ্ছি।'                                                      

নেতাজি ইন্ডোরে আশ্বাস মিললেও, DI অফিসে গিয়ে জুটেছিল পুলিশের লাথি....আর, এবার বিকাশ ভবনে এসে জুটল লাঠি-ঘাড়ধাক্কা। 

ইতিমধ্যেই চাকরিহারা শিক্ষকদের ওপর বিধাননগর পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ই-মেলে অভিযোগ আইনজীবী রাজনীল মুখোপাধ্যায়ের। বিধাননগর কমিশনারেটের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করুক আদালত, আর্জি আইনজীবীর। শুক্রবার এই নিয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।